ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা চায় আরব আমিরাত!

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩
  • / 183

ফিলিস্তিনের গাজায় একের পর এক হামলা করেই যাচ্ছে ইসরায়েল। বাদ দেওয়া হয়নি আশ্রয়কেন্দ্রও। সম্প্রতি হাসপাতালেও হামলা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ৭ অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নিরীহ মানুষ মারা গেছে। বিশ্বব্যাপী এই হামলার নিন্দা করা হলেও হামলাকারী দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় আরবের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের চারটি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আমেরিকার উদ্যোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে শুরু করেছে আরব দেশগুলো। এর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আরব আমিরাত। ২০২০ সালেই দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে হাঁটে।

এমনকি সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপার আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপের পর সব ওলটপালট হয়ে যায়। আরব দেশগুলো ইসরায়েলের নিন্দা করতে থাকে। ভেস্তে যায় কূটনৈতিক সম্পর্কের আলাপ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গত মাসে কথা বলেছেন আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সরকারিভাবে নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি। এমনকি এই সহিংসতা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়।

কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পিছপা হবে না আরব আমিরাত। কিন্তু এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে দেশটির সরকারি দপ্তর থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটি বলছে, সংঘাত ইস্যুতে দ্রুত যুদ্ধবিরতি চায় তারা। এ ছাড়া মানবিক করিডরও চায় আরব আমিরাত।

আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে আরব আমিরাতের। এই সম্পর্ক ভাঙতে চায় না দেশটি। এ কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখতে চায় তারা। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের মনোভাবের সাথেও তাল মিলিয়া চলতে চায়। এ কারণে হামলার নিন্দাও করা হচ্ছে।

এই যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতে রুপ নিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে আরব আমিরাত। আর তেমনটি হলে তাদের জন্যও ক্ষতি। কিন্তু আমেরিকার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে এত সহজে এই সংঘাত বন্ধ হবে না। এ কারণে উভয় সংকটে পড়েছে আরব আমিরাত।

গত ১৮ অক্টোবর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আরব আমিরাতের অ্যাম্বাসেডর লানা নুসেইবে বলেন, এই অঞ্চল স্থিতিশীল রাখার জন্য আমেরিকার উদ্যোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেবে আবুধাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা চায় আরব আমিরাত!

আপডেট সময় : ০২:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

ফিলিস্তিনের গাজায় একের পর এক হামলা করেই যাচ্ছে ইসরায়েল। বাদ দেওয়া হয়নি আশ্রয়কেন্দ্রও। সম্প্রতি হাসপাতালেও হামলা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ৭ অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নিরীহ মানুষ মারা গেছে। বিশ্বব্যাপী এই হামলার নিন্দা করা হলেও হামলাকারী দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় আরবের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের চারটি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আমেরিকার উদ্যোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে শুরু করেছে আরব দেশগুলো। এর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আরব আমিরাত। ২০২০ সালেই দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে হাঁটে।

এমনকি সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপার আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপের পর সব ওলটপালট হয়ে যায়। আরব দেশগুলো ইসরায়েলের নিন্দা করতে থাকে। ভেস্তে যায় কূটনৈতিক সম্পর্কের আলাপ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গত মাসে কথা বলেছেন আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সরকারিভাবে নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি। এমনকি এই সহিংসতা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়।

কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পিছপা হবে না আরব আমিরাত। কিন্তু এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে দেশটির সরকারি দপ্তর থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটি বলছে, সংঘাত ইস্যুতে দ্রুত যুদ্ধবিরতি চায় তারা। এ ছাড়া মানবিক করিডরও চায় আরব আমিরাত।

আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে আরব আমিরাতের। এই সম্পর্ক ভাঙতে চায় না দেশটি। এ কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখতে চায় তারা। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের মনোভাবের সাথেও তাল মিলিয়া চলতে চায়। এ কারণে হামলার নিন্দাও করা হচ্ছে।

এই যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতে রুপ নিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে আরব আমিরাত। আর তেমনটি হলে তাদের জন্যও ক্ষতি। কিন্তু আমেরিকার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে এত সহজে এই সংঘাত বন্ধ হবে না। এ কারণে উভয় সংকটে পড়েছে আরব আমিরাত।

গত ১৮ অক্টোবর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আরব আমিরাতের অ্যাম্বাসেডর লানা নুসেইবে বলেন, এই অঞ্চল স্থিতিশীল রাখার জন্য আমেরিকার উদ্যোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেবে আবুধাবি।