ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 46

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে না দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। কিছু রাজনৈতিক মহল নিত্য নতুন দাবি তুলে নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করছে। ফখরুল নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তারা এমন দাবি তুলেছেন যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা জিতে গেছি, এটি ভাবলে ভুল হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের জন্য সব রকম সহযোগিতা আমরা রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার কমিশনে করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করেছি। কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি। কখনো কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারকে বিব্রত করিনি।

ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, এক বছরের মধ্যে অনেক পরিবর্তন সম্ভব ছিল। তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন করলে নির্বাচিত সরকার আসতো। এখনও সময় আছে, জটিলতা তৈরি না করে সংস্কারসহ অন্যান্য কাজগুলো দ্রুত করুন। ঘোষিত সময়ে নির্বাচন নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দিল্লিতে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশে নির্বাচন না হয় এবং শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা যায়।

‘আপনার এলাকায় একজন জনপ্রিয় মানুষ আছেন জলিল উদ্দিন সাহেব নামে, আপনারা তাকে ভোট দিলেন, কিন্তু তিনি খলিল উদ্দিন হয়ে পার্লামেন্টে আসলো। এই বিষয়গুলো কিন্তু এখনো আমাদের কাছেই পরিষ্কার না, সাধারণ জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়’, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো হুমকি দিচ্ছেন, কথা বলছেন এবং অত্যন্ত জোর করছেন বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

জনগণের মন-মানসিকতা সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কোনো দিন রাজনীতিতে হতাশ হইনি। সবসময় সবাইকে সাহস দিয়েছি। ইদানিং মাঝে মাঝে হতাশার ছায়া লক্ষ করি। বলবেন কেন? যেদিকে তাকাই দেখি, দেশের বেশিরভাগ মানুষই নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি, দুর্নীতি, দুর্নীতি; কোনো অফিস আদালতে যেতে পারবেন না। আগেই বলেছি, আগে ঘুষ দেওয়া লাগতো ১ লাখ এখন ৫ লাখ দিতে হয়।’

চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপির অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রে যেতে সংস্কারের মধ্যে নির্বাচনের একটা তারিখও ঘোষণা হয়েছে। আমরা এক সঙ্গে যারা আন্দোলন করেছি, সবাই মিলে সংস্কারের ৩১ দফা দিয়েছি। সংস্কারের সবগুলোই ওখানে আছে। সুতরাং সংস্কারের পক্ষে আমরা প্রথম থেকে। কারণ, আমরা উপলব্ধি করেছিলাম, বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সংস্কার করার জন্য সমস্ত রকম সহযোগিতা সংস্কার কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে করছি। কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি। কখনো কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারকে বিব্রত করিনি।’

এসময় ফখরুল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনমুখী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৪:২২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে না দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। কিছু রাজনৈতিক মহল নিত্য নতুন দাবি তুলে নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করছে। ফখরুল নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তারা এমন দাবি তুলেছেন যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা জিতে গেছি, এটি ভাবলে ভুল হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের জন্য সব রকম সহযোগিতা আমরা রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার কমিশনে করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করেছি। কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি। কখনো কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারকে বিব্রত করিনি।

ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, এক বছরের মধ্যে অনেক পরিবর্তন সম্ভব ছিল। তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন করলে নির্বাচিত সরকার আসতো। এখনও সময় আছে, জটিলতা তৈরি না করে সংস্কারসহ অন্যান্য কাজগুলো দ্রুত করুন। ঘোষিত সময়ে নির্বাচন নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দিল্লিতে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশে নির্বাচন না হয় এবং শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা যায়।

‘আপনার এলাকায় একজন জনপ্রিয় মানুষ আছেন জলিল উদ্দিন সাহেব নামে, আপনারা তাকে ভোট দিলেন, কিন্তু তিনি খলিল উদ্দিন হয়ে পার্লামেন্টে আসলো। এই বিষয়গুলো কিন্তু এখনো আমাদের কাছেই পরিষ্কার না, সাধারণ জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়’, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো হুমকি দিচ্ছেন, কথা বলছেন এবং অত্যন্ত জোর করছেন বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

জনগণের মন-মানসিকতা সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কোনো দিন রাজনীতিতে হতাশ হইনি। সবসময় সবাইকে সাহস দিয়েছি। ইদানিং মাঝে মাঝে হতাশার ছায়া লক্ষ করি। বলবেন কেন? যেদিকে তাকাই দেখি, দেশের বেশিরভাগ মানুষই নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি, দুর্নীতি, দুর্নীতি; কোনো অফিস আদালতে যেতে পারবেন না। আগেই বলেছি, আগে ঘুষ দেওয়া লাগতো ১ লাখ এখন ৫ লাখ দিতে হয়।’

চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপির অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রে যেতে সংস্কারের মধ্যে নির্বাচনের একটা তারিখও ঘোষণা হয়েছে। আমরা এক সঙ্গে যারা আন্দোলন করেছি, সবাই মিলে সংস্কারের ৩১ দফা দিয়েছি। সংস্কারের সবগুলোই ওখানে আছে। সুতরাং সংস্কারের পক্ষে আমরা প্রথম থেকে। কারণ, আমরা উপলব্ধি করেছিলাম, বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সংস্কার করার জন্য সমস্ত রকম সহযোগিতা সংস্কার কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে করছি। কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি। কখনো কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারকে বিব্রত করিনি।’

এসময় ফখরুল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনমুখী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।