ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আঁতাত নেই: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 46

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আঁতাত নেই উল্লেখ করে বিএনপির সিনয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী বলেছেন, যারা লীগের সাথে ছিল, সহযোগিতা করছে, তারা যেন খোলস পাল্টাতে না পারে সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে নবগঠিত পিরোজপুর জেলার নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু দেশীয় রাজনীতি নয়, প্রবাসে থেকেও সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্রের সংগ্রামে সম্পৃক্ত করেছেন।

‘সেতুভবন-বিটিভি-মেট্রোরেলে আগুন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা’

তার ভাষায়, ‘তারেক রহমান তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নামিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য, সেই ইতিহাস কোনোদিন মুছে যাবে না। এটি ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান আন্দোলনের সময় তরুণদের সামনে নেতৃত্বের যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে।

নিউইয়র্কের ঘটনায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকার দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলে নিউইয়র্কের ঘটনা ঘটাতে সাহস পেতো না ফ্যাসিবাদেরর দোসররা। একই কারণে তারা দেশেও অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবকে নিউইয়র্কে কেউ লাঞ্চিত করেনি দাবি করে রিজভী বলেন, মহাসচিবকে নিয়ে নানা অপপ্রচার শুরু হয়েছে, যার সবকিছুই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তীব্র সমালেচনা করে রিজভী বলেন, সংস্থাটি এতটাই অথর্ব যে লুটপাটকারী কাউকে দেশে আনতে পারেনি। পাঁচার হওয়া টাকাও ফেরত আনতে পারেনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন, দুবাই, কানাডা, অটোয়া ও সিডনিতে তাদের সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। খবরের কাগজেই বেরিয়েছে—আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি-আত্মীয় পর্যন্ত ৬০২টি সম্পদ বা প্লট পেয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ে তিনি বলেন, যাদের প্রতি সব গণতান্ত্রিক শক্তির সমর্থন রয়েছে, তারা যদি আরও দক্ষতা দেখাত, তাহলে নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদের দোসররা সাহস করে সেই অপকর্ম চালাতে পারত না।

দুদকের অকার্যকারিতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র এ নেতা। তার দাবি, আদালত থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ২৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আন্দোলনের শহীদদের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘ওয়াসিম, আবু সাঈদ, মুগ্ধর রক্ত বৃথা যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ এই দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অনুপ্রাণিত করবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আঁতাত নেই: রিজভী

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আঁতাত নেই উল্লেখ করে বিএনপির সিনয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী বলেছেন, যারা লীগের সাথে ছিল, সহযোগিতা করছে, তারা যেন খোলস পাল্টাতে না পারে সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে নবগঠিত পিরোজপুর জেলার নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী পতাকা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু দেশীয় রাজনীতি নয়, প্রবাসে থেকেও সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্রের সংগ্রামে সম্পৃক্ত করেছেন।

‘সেতুভবন-বিটিভি-মেট্রোরেলে আগুন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা’

তার ভাষায়, ‘তারেক রহমান তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নামিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য, সেই ইতিহাস কোনোদিন মুছে যাবে না। এটি ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান আন্দোলনের সময় তরুণদের সামনে নেতৃত্বের যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে।

নিউইয়র্কের ঘটনায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকার দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলে নিউইয়র্কের ঘটনা ঘটাতে সাহস পেতো না ফ্যাসিবাদেরর দোসররা। একই কারণে তারা দেশেও অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবকে নিউইয়র্কে কেউ লাঞ্চিত করেনি দাবি করে রিজভী বলেন, মহাসচিবকে নিয়ে নানা অপপ্রচার শুরু হয়েছে, যার সবকিছুই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তীব্র সমালেচনা করে রিজভী বলেন, সংস্থাটি এতটাই অথর্ব যে লুটপাটকারী কাউকে দেশে আনতে পারেনি। পাঁচার হওয়া টাকাও ফেরত আনতে পারেনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন পর্যন্ত বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন, দুবাই, কানাডা, অটোয়া ও সিডনিতে তাদের সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। খবরের কাগজেই বেরিয়েছে—আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি-আত্মীয় পর্যন্ত ৬০২টি সম্পদ বা প্লট পেয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ে তিনি বলেন, যাদের প্রতি সব গণতান্ত্রিক শক্তির সমর্থন রয়েছে, তারা যদি আরও দক্ষতা দেখাত, তাহলে নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদের দোসররা সাহস করে সেই অপকর্ম চালাতে পারত না।

দুদকের অকার্যকারিতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র এ নেতা। তার দাবি, আদালত থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ২৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আন্দোলনের শহীদদের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘ওয়াসিম, আবু সাঈদ, মুগ্ধর রক্ত বৃথা যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ এই দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অনুপ্রাণিত করবে।’