বিরল সম্পদ আবিষ্কার বাংলাদেশের দ্বীপে!
- আপডেট সময় : ০২:০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 74
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তুফান আসতে চলেছে! এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের একটি দ্বীপ। দাবি করা হচ্ছে সেখানেই পাওয়া গিয়েছে কিছু বিরল খনিজ। যে বিরল খনিজ নিয়ে এখন কাড়াকাড়ি চলছে গোটা বিশ্বে। বাংলাদেশের সোনাদিয়া দ্বীপে পাওয়া গিয়েছে ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, জারনেট, জিরকন, রিউটাইল ও মনোজাইটের মতো দামি খনিজ।
কক্সবাজারের ছোট্ট একটি দ্বীপ হল সোনাদিয়া। আয়তনে মাত্র ৯ বর্গ কিলোমিটার। গোটা দ্বীপটাই ম্যানগ্রোভে ঢাকা। বলা হচ্ছে এই দ্বীপের মাটিতেই পাওয়া যেতে পারে ৭ লাখ মেট্রিক টন ওইসব বিরল খনিজ। এর মধ্যে বেশি রয়েছে জারনেট ও ইলমেনাইট। বিশষজ্ঞরা বলছেন, ওইসব খনিজ উত্তোলন করা যেতে পারে। আর তা হলেই বিপুল অর্থ আসতে পারে বাংলাদেশের ঘরে।
সুইত্জারল্যান্ডের একটি গবেষণা পত্রিকায় সম্প্রতি ওই সোনাদিয়া দ্বীপ নিয়ে একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণাটি করেছেন মহম্মদ সওকত হুসেন, মহম্মদ সাহরিয়ায় রহমান, গুলাম তাকি ও মাহফুজা জাহান নামে ৪ গবেষক। এরা নিউজিল্য়ান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। তাদের গবেষণাতেই উঠে এসেছে ওই বিরল খনিজের কথা।
ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে সোনাদিয়া দ্বীপের মাটিতে রয়েছে ৫১.৫২ শতাংশ জারনেট, ৩৮.১৪ শতাংশ ইলমেনাইট। এই দুই খনিজের বাজারদর প্রচুর। এছাড়াও ওই দ্বীপের মাটিতে রয়েছে ম্যাগনেটাইট রয়েছে ৫.৭৪ শতাংশ, জিরকন ১.০১ শতাংশ রিউটাইল রয়েছে ৩.৫৭ শতাংশ, মোনাজাইট রয়েছে ০.০১ শতাংশ। ওই দ্বীপের বালিয়াড়িতে লুকিয়ে রয়েছে আরও অনেক ভারী খনিজ। এদের দামও প্রচুর।
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০ জন নিহত
জারনেট ও ইলমেনাইটের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর। জারনেট ব্য়বহৃত হয় ওয়াটের জেট কাটিং মেশিনে, পলিস ও স্যান্ডব্লাস্টিংয়ের কাজে। অন্যদিকে ইলমেনাইট ব্যবহার হয় টাইটেনিয়াম উত্পাদনে। এই টাইটেনিয়ামের ব্যবহার রয়েছে মহাকাশ গবেষণায়, বিমান তৈরিতে ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে।
আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরল খনিজ অপরিহার্য। আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিরল খনিজের ব্যবহার আছে। যেমন মোবাইল, কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহন, টেলিভিশনের এলইডি ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি যেমন লেজার, রাডার ও সোলার সিস্টেম, জেট ইঞ্জিন, মিসাইল সিস্টেম ও স্যাটেলাইটেও এর ভূমিকা আছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন বায়ু টারবাইন ও সৌর প্যানেল এবং চিকিৎসা, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি এবং কাচ ও সিরামিক শিল্পও এখন বিরল খনিজনির্ভর। তবে এদের উত্তোলন এবং পৃথক্করণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তর জানিয়েছে যে সরকার এখন নদীর বালি থেকে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করার জন্য কাজ করছে। তাঁদের অনুমান, প্রতি বছর নদীর পলি মাত্র ১০% প্রক্রিয়াকরণ করা হলেও, এটি বার্ষিক ২,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে যে সোনাদিয়া দ্বীপের খনিজগুলোতে, যার মধ্যে রয়েছে জিরকন , রুটাইল, এবং ইলমেনাইট, গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। অন্যান্য খনিজ, যেমন অ্যাম্ফিবোল , মাস্কোভাইট , এবং কোয়ার্টজ-ও সেখানে উপস্থিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের মোট বিরল মৃত্তিকা খণিজের ৭০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করে চীন। বিকল্প হিসেবে রয়েছে ভিয়েতনাম এবং অস্ট্রেলিয়া। এই দুই দেশেও বহু বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় যোগ দিতে পারে।























রংপুরে চার হত্যা: ২ আসামির ডিএনএ সংগ্রহ ও ডোপ টেস্ট হবে