বায়ার্নকে থামিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 29
হিসেব–নিকেশ আর বলা–বলি কমতি ছিল না। উড়তে ছিল দুই দলই। নতুন মৌসুমে একদল রাজ করছে বুন্দেসলিগায়, অন্যদলের দাপট প্রিমিয়ার লিগে। দুই মেরুর জায়ান্টদের আজ টক্কর ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে। রাজত্ব দখলের মিশনে আর্সেনালের কাছে বড় ধাক্কা খেল বায়ার্ন মিউনিখ।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত দুইটার ম্যাচে ৩-১ গোলে হারের মধ্য দিয়ে উড়তে থাকা বায়ার্নের গর্ব পড়ল মাটিতে। জার্মান লিগ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ—কোথাও থামছিল না ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। আজ তা দমিয়ে দিল মিকেল আরতেতার শিষ্যরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন একমাত্র শতভাগ জয়ী দল আর্সেনাল। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। ৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে গার্নাররা। দ্বিতীয় স্থানে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। বায়ার্ন নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। আর আতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে ইন্টার।
শীর্ষস্থান দখলের ম্যাচ বলে কথা—আটঘাট বেঁধেই লড়াই করেছে আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখ। বল দখলে কিছুটা পেছনে থাকলেও আর্সেনাল নিয়েছে ১২টি শট। বিপরীতে বায়ার্ন মাত্র ৮টি শট নিতে পেরেছে।
ম্যাচের ১৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে শট নেন জশুয়া কিমিখ। সম্ভাবনা তৈরি হলেও আর্সেনালের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি অতিথিরা। পরের মিনিটে ওলসের কর্নার থেকে বুলেটগতির শট নেন ডেওট উপামেকানো—আর্সেনালের সুরক্ষায় ছিলেন তিনি।
২৩ মিনিটে আসে আর্সেনালের সুযোগ। বাম দিকের কর্নার থেকে দুর্দান্ত ইনসুইং শট নেন বুকায়ো সাকা। তাঁর সেই নিখুঁত ডেলিভারি লাফিয়ে হেড করেন টিম্বার। তা রুখতে গিয়ে ভুল করে বসেন ম্যানুয়েল নুয়্যার। মুহূর্তেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্বাগতিক সমর্থকরা।
আরেকবার সুযোগ হারায় আর্সেনাল। এজের শটটি শুধু পা ছুঁইয়ে দিলেই লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সাকার আগেই বল গড়িয়ে বাইরে চলে যায়।
৩২তম মিনিটে মিডফিল্ড থেকে উড়ে আসা বল দারুণভাবে রিসিভ করেন সার্জ ন্যাব্রি। বক্সের কেন্দ্রে থাকা লেনার্ট কার্লকে পাস দেন তিনি। কার্ল বাম পায়ের আলতো স্পর্শে বল জালে জড়ান—গোল করে ফেললেন জার্মানির ১৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের জালে কারো প্রথম গোল এটি।
৩৭ মিনিটে লিয়েন্দ্রো ট্রসার্ডকে তুলে নিয়ে নামান ননি মাদুয়েকে।
৪৩ মিনিটে সাকাকে কড়া ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লেইমার। সেসময় বায়ার্ন শিবিরে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ডেকলান রাইস সময়মতো বা সুবিধাজনক জায়গায় থাকলে, কিংবা এগিয়ে গিয়ে শট নিলে লিড দ্বিগুণ করতে পারত আর্সেনাল। তবে ১–১ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
১৫৮ জন ইউএনওকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে কার্ল একাই আক্রমণে ওঠেন। যুদ্ধদেহী মনোভাব নিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢোকেন। শটও নেন, তবে তাতে ছিল না ধার বা জোর।
৫৭ মিনিটে কর্নার আদায় করে আর্সেনাল। ভাগ্যগুণে রেহাই পায় বায়ার্ন। ডেকলান রাইসের ইনসুইং ডেলিভারি থেকে মিকেল মারিনো হেড করতে গেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
পরের মিনিটে সেটপিস থেকে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় আর্সেনালের। সার্জ ন্যাব্রির হেড ঠিকঠাকভাবে দিক নিয়েছিল, কিন্তু তা গ্লাভসে জমা করেন বায়ার্ন গোলকিপার।
৬২ মিনিটে আবারও বিপদে পড়ে বায়ার্ন। রাইসের শট পা দিয়ে ঠেকান নয়্যার। বল রিবাউন্ড হতেই বাঁশি বাজান রেফারি।
৬৯ মিনিটে বদলি হয়ে নামা মাদুয়েকে গোল করে লিড এনে দেন আর্সেনালকে। ইতালিয়ান লেফটব্যাক রিকার্ডো কালাফিওরির বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে জড়ান। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই গোলের দেখা পেলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
৭৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি দেখালেন একক কৃতিত্ব। কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এজে ক্রসে বল পাঠান বায়ার্ন অর্ধে। নয়্যার ততক্ষণে মিডফিল্ডে — বিপদ যে ঘটতে যাচ্ছে আঁচ করতে পারেননি তিনি। আর এ সুযোগ কাজে লাগান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ওয়ান-টু পজিশনে থেকে নয়্যারকে বোকা বানিয়ে গোল করেন মার্তিনেল্লি।
শেষ পর্যন্ত ৩–১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।


























উনাহির জোড়া গোলে শেষ আটে মরক্কো