ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়েছে ২০০ বছরের পুরনো দলিল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 121
137

যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে। এতে ২০০ বছরের ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে বিদ্যুৎবিহীন ও তালাবদ্ধ ঘরটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যশোরের শার্শা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানান, তাঁর বর্তমান কর্মস্থল শার্শা হলেও তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় থাকেন। জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে একসময় তিনি চাকরি করেছেন। এই রেকর্ড রুমে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষিত ছিল। তিনি আরও জানান, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা কেউ খুলতেন না। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ভেতরে গিয়ে দেখতে পান পুরোনো কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কাগজপত্র থাকলেও তা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবেন বলে জানান মোহরার শামসুজ্জামান।

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

আগুন লাগার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরোনো ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পান। ভবনের গেটে তালা মারা থাকে। সেখানে হিরা নামের এক নৈশপ্রহরীও থাকেন। কিন্তু আগুন লাগার সময় তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে আগুন লাগা দেখে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ না করে কিছু বলা যাবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার ঘটনাটি রহস্যজনক। ওই ভবনের মধ্যে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে শর্টসার্কিটে যে আগুন লাগবে, এর কোনো কারণ নেই। পরিকল্পিতভাবে ওই ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হতে পারে। সূত্র আরও জানায়, তিন নৈশপ্রহরীর আচরণ সন্দেহজনক। পুলিশ তদন্ত করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তাঁদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরোনো ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল। আর ভেতরে জ্বলছিল আগুন। সেখানে কোনো স্টাফ ছিলেন না। তাঁরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০ মিনিট চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও বলেন, ভবনের দুটি রুমে রেখে দেওয়া পুরোনো দলিলপত্র পুড়ে গেছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। বিদ্যুৎবিহীন ও তালাবদ্ধ ঘরে কীভাবে আগুন লাগতে পারে, এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়েছে ২০০ বছরের পুরনো দলিল

আপডেট সময় : ০১:০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
137

যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে। এতে ২০০ বছরের ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে বিদ্যুৎবিহীন ও তালাবদ্ধ ঘরটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যশোরের শার্শা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানান, তাঁর বর্তমান কর্মস্থল শার্শা হলেও তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় থাকেন। জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে একসময় তিনি চাকরি করেছেন। এই রেকর্ড রুমে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষিত ছিল। তিনি আরও জানান, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা কেউ খুলতেন না। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ভেতরে গিয়ে দেখতে পান পুরোনো কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কাগজপত্র থাকলেও তা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবেন বলে জানান মোহরার শামসুজ্জামান।

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

আগুন লাগার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরোনো ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পান। ভবনের গেটে তালা মারা থাকে। সেখানে হিরা নামের এক নৈশপ্রহরীও থাকেন। কিন্তু আগুন লাগার সময় তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে আগুন লাগা দেখে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ না করে কিছু বলা যাবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার ঘটনাটি রহস্যজনক। ওই ভবনের মধ্যে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে শর্টসার্কিটে যে আগুন লাগবে, এর কোনো কারণ নেই। পরিকল্পিতভাবে ওই ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হতে পারে। সূত্র আরও জানায়, তিন নৈশপ্রহরীর আচরণ সন্দেহজনক। পুলিশ তদন্ত করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তাঁদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরোনো ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল। আর ভেতরে জ্বলছিল আগুন। সেখানে কোনো স্টাফ ছিলেন না। তাঁরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০ মিনিট চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও বলেন, ভবনের দুটি রুমে রেখে দেওয়া পুরোনো দলিলপত্র পুড়ে গেছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। বিদ্যুৎবিহীন ও তালাবদ্ধ ঘরে কীভাবে আগুন লাগতে পারে, এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।