রোহিঙ্গা গণহত্যা: জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু

- আপডেট সময় : ০২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 92
মিয়ানমার কি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা করেছে? সোমবার (১২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া তিন সপ্তাহের শুনানিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারকরা এটি বিবেচনা করবেন।
গাম্বিয়া ২০১৭ সালে ক্র্যাকডাউনের সময় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাটি এনেছিল।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের সহিংসতা থেকে পালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যায় এবং গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ভয়াবহ বিবরণ নিয়ে আসে।
বর্তমানে, ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে ৮,০০০ একর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ শিবিরে বাস করে।
সেখান থেকে দুই সন্তানের মা জানিফা বেগম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি দেখতে চাই আমরা যে কষ্ট সহ্য করেছি তা শুনানির সময় প্রতিফলিত হয় কিনা। “আমরা ন্যায়বিচার এবং শান্তি চাই,” ৩৭ বছর বয়সী বলেন।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে নতুন রেকর্ড
অবশ্য মিয়ানমার সরকার বরাবরই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের মিয়ানমার–বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, এই মামলা গণহত্যার সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা কীভাবে প্রমাণ করা যায় এবং এ ধরনের অপরাধের প্রতিকার কীভাবে দেয়া যেতে পারে— এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।
২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম–প্রধান দেশ গাম্বিয়া আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটি গণহত্যা চালিয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের ফলে অন্তত সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেখানে তারা হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে।
২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, এটি মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাবে পরিচালিত একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ছিল।
২০১৯ সালে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার আনা গণহত্যার অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
রয়টার্স বলছে, আইসিজের চলমান শুনানিতে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আদালতে শোনা হবে। তবে সংবেদনশীলতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে এসব শুনানি গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) শুনানি শুরু হবে এবং তা টানা তিন সপ্তাহ চলবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে সেনাবাহিনী নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মিয়ানমার আরও গভীর সংকটে রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন দমন করতে গিয়ে দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে মিয়ানমারে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে জাতিসংঘসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন এসব নির্বাচনকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু নয় বলে আখ্যায়িত করেছে।























