ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় যারা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 212
229

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (13th National Parliamentary Election) নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা। বর্তমান তালিকায় থাকা চারজন সিনিয়র নেতার রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা দলটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এদের মধ্য থেকেই কেউ হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি (Next President of Bangladesh) কিংবা নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্ণধার। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (President Mohammed Shahabuddin) সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের নাম নিয়ে রাজনৈতিক (Who is the Next President of Bangladesh?) মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

অবশেষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলো এনসিপি

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে জোরালোভাবে নাম আসছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের (Khandaker Mosharraf Hossain)। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান (Nazrul Islam Khan), অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) ও ড. আব্দুল মঈন খান (Abdul Moyeen Khan)।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কুমিল্লা-১ (Cumilla-1) আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলের একাংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (Political Advisor to the PM) হিসেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছে। শ্রমিক রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ নেতা বর্তমানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখা এবং সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করায় দলের ভেতর তার অবস্থান সুসংহত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নাম আলোচনায় থাকলেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (Political Advisor to the PM) করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)
বিএনপির বর্তমান মহাসচিব (Secretary General of BNP) মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় গত শতাব্দীর আটের দশকে। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতি হন। ২০১১ সালে খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণ মহাসচিব নির্বাচিত হন।২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালেও বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত হন, যদিও তখন তিনি শপথ নেননি।

ড. আব্দুল মঈন খান (Abdul Moyeen Khan)
বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির ধারক হিসেবে পরিচিত ড. আব্দুল মঈন খান। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি এবার নিয়ে ৪ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০২৬)। ১৯৯৩-৯৬ মেয়াদে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে তথ্যমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য (Standing Committee Member)।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিপূর্বে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে (Reuters) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি সরে যেতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী (According to Constitution), রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ (Oath of MPs) এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ২০৯টি আসনে জয়ী বিএনপির জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সংসদ সদস্যরাই ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় যারা

আপডেট সময় : ১০:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
229

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (13th National Parliamentary Election) নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা। বর্তমান তালিকায় থাকা চারজন সিনিয়র নেতার রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা দলটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এদের মধ্য থেকেই কেউ হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি (Next President of Bangladesh) কিংবা নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্ণধার। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (President Mohammed Shahabuddin) সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের নাম নিয়ে রাজনৈতিক (Who is the Next President of Bangladesh?) মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

অবশেষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলো এনসিপি

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে জোরালোভাবে নাম আসছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের (Khandaker Mosharraf Hossain)। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান (Nazrul Islam Khan), অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) ও ড. আব্দুল মঈন খান (Abdul Moyeen Khan)।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কুমিল্লা-১ (Cumilla-1) আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলের একাংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (Political Advisor to the PM) হিসেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছে। শ্রমিক রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ নেতা বর্তমানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখা এবং সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করায় দলের ভেতর তার অবস্থান সুসংহত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নাম আলোচনায় থাকলেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (Political Advisor to the PM) করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)
বিএনপির বর্তমান মহাসচিব (Secretary General of BNP) মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় গত শতাব্দীর আটের দশকে। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতি হন। ২০১১ সালে খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণ মহাসচিব নির্বাচিত হন।২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালেও বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত হন, যদিও তখন তিনি শপথ নেননি।

ড. আব্দুল মঈন খান (Abdul Moyeen Khan)
বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির ধারক হিসেবে পরিচিত ড. আব্দুল মঈন খান। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি এবার নিয়ে ৪ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০২৬)। ১৯৯৩-৯৬ মেয়াদে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে তথ্যমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য (Standing Committee Member)।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিপূর্বে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে (Reuters) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি সরে যেতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী (According to Constitution), রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ (Oath of MPs) এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ২০৯টি আসনে জয়ী বিএনপির জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সংসদ সদস্যরাই ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।