ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাহারোলে ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

এম.এ জলিল শাহ কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 180
198

দিনাজপুরের কাহারোলে ইরি-বোরো চাষে দলবেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। দিনমুজুর শ্রমিকরাও বসে না থেকে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় কিছুদিন জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো মৌসুমের কাজ।

উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যাকবলিত সরিষার আবাদি কিছু নিচু জমি ছাড়া প্রায় সর্বত্র ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ পুরোদমে চলছে। সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি এলাকায় আদিবাসী কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করছেন।

ডাবোর ইউনিয়নের ডহচী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য ও সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি। সুন্দরপুর ইউনিয়নের মালগ্রাম গ্রামের আরেক কৃষক মন্টু চন্দ্র রায়, রুহুল ও আসিফ বলেন, ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ, সার ও কীটনাশকের সঠিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব হবে।

অপরদিকে এলাকার আরেক কৃষকরাও জানান, কৃষিকাজে বিরতি মানেই পরিবার ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া। তারা বলেন, মাঠের পর মাঠ ফসল না লাগালে মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে? প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে অল্পদিনের মধ্যেই চারদিকে ধানক্ষেতে সবুজের সমারোহ দেখা যাবে।

কাহারোলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা

কাহারোল উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা দিন-রাত কৃষকদের পাশে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ল্যাক পদ্ধতি, লাইনে চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবহার, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, ভিজানো-শুকানো পদ্ধতি, মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া সম্ভব। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে জমিতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বিদ্যুৎ সার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কাহারোলে ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
198

দিনাজপুরের কাহারোলে ইরি-বোরো চাষে দলবেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। দিনমুজুর শ্রমিকরাও বসে না থেকে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় কিছুদিন জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো মৌসুমের কাজ।

উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যাকবলিত সরিষার আবাদি কিছু নিচু জমি ছাড়া প্রায় সর্বত্র ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ পুরোদমে চলছে। সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি এলাকায় আদিবাসী কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করছেন।

ডাবোর ইউনিয়নের ডহচী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য ও সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি। সুন্দরপুর ইউনিয়নের মালগ্রাম গ্রামের আরেক কৃষক মন্টু চন্দ্র রায়, রুহুল ও আসিফ বলেন, ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ, সার ও কীটনাশকের সঠিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব হবে।

অপরদিকে এলাকার আরেক কৃষকরাও জানান, কৃষিকাজে বিরতি মানেই পরিবার ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া। তারা বলেন, মাঠের পর মাঠ ফসল না লাগালে মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে? প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে অল্পদিনের মধ্যেই চারদিকে ধানক্ষেতে সবুজের সমারোহ দেখা যাবে।

কাহারোলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা

কাহারোল উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা দিন-রাত কৃষকদের পাশে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ল্যাক পদ্ধতি, লাইনে চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবহার, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, ভিজানো-শুকানো পদ্ধতি, মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া সম্ভব। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে জমিতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বিদ্যুৎ সার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।