ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ইরানের পাশে আছে রাশিয়া: পুতিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / 62

ইরানের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ উপলক্ষে দেশটির নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুভেচ্ছা বার্তায় পুতিন মস্কোকে তেহরানের ‘একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমানের কঠোর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ইরানি জনগণের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অতল গহ্বরে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন পুতিন।

যুদ্ধের কারণে ইরানে ম্লান ফার্সি নববর্ষ ও ঈদ উদযাপন

এদিকে চলমান এ উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকো একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মস্কো ওয়াশিংটনকে প্রস্তাব দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা বন্ধ করে, তবে রাশিয়াও ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে পলিটিকো জানালেও, ক্রেমলিন এ প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতাচ্যুত করায় রাশিয়া তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারিয়েছে। তবে কৌশলগত অংশীদার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি থাকলেও এর প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ বা মিউচুয়াল ডিফেন্স ক্লজ যুক্ত নেই।

অন্যদিকে, মস্কো বরাবরই স্পষ্ট করে আসছে তারা চায় না ইরান কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক। রাশিয়ার আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটতে চাইবে, যা ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

একনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ইরানের পাশে আছে রাশিয়া: পুতিন

আপডেট সময় : ০৯:২৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ইরানের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ উপলক্ষে দেশটির নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুভেচ্ছা বার্তায় পুতিন মস্কোকে তেহরানের ‘একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমানের কঠোর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ইরানি জনগণের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অতল গহ্বরে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন পুতিন।

যুদ্ধের কারণে ইরানে ম্লান ফার্সি নববর্ষ ও ঈদ উদযাপন

এদিকে চলমান এ উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকো একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মস্কো ওয়াশিংটনকে প্রস্তাব দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা বন্ধ করে, তবে রাশিয়াও ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে পলিটিকো জানালেও, ক্রেমলিন এ প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতাচ্যুত করায় রাশিয়া তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারিয়েছে। তবে কৌশলগত অংশীদার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি থাকলেও এর প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ বা মিউচুয়াল ডিফেন্স ক্লজ যুক্ত নেই।

অন্যদিকে, মস্কো বরাবরই স্পষ্ট করে আসছে তারা চায় না ইরান কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক। রাশিয়ার আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটতে চাইবে, যা ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স