জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে সরকার: জামায়াত আমির

- আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
- / 114
সরকার জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভাটেরা ইউনিয়নের নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘মন্ত্রী বলেছেন অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেয়া হবে। এতো মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা ফেরত দিতে তাদেরকে পাবেন কীভাবে? ঈদের সময় যাত্রীরা টিকিট কিনতে গিয়ে দেখেছেন অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। যে আশা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবে সেমাই খাবে তার আনন্দ তো এখানেই মাটি হয়ে গেলো।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে। অনিয়ম হলেও আমরা মেনে নিয়েছি। দেশটা অচল না হোক। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, সারা দেশের জুলাই যোদ্ধারা আপনাদের ক্ষমা করবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার বিরোধীদলীয় নেতাকে যে বাড়ি দিয়েছে সেই বাড়িতে থাকবো না। এটি ব্যবহার করবো দেশের প্রয়োজনে। সেখানে বিদেশি মেহমানদের নিয়ে কথা বলব। শুধু রাষ্ট্রের কাজে এটি ব্যবহার করা হবে।’
হাদির খুনিদের দেশে ফেরাতে ইনকিলাব মঞ্চের ১৫ দিনের আলটিমেটাম
তিনি বলেন, সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করতে হয় না। আমরা সরকারের কণ্ঠে শুনতে চাই, আর বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম হবে না। যদি সরকার এটা করেন আমরা সরকারের সব ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করবো, সমর্থন করবো। কিন্তু যে পদক্ষেপ জনস্বার্থের বিপক্ষে যাবে আমরা তার প্রতিবাদ করবো, না মানলে প্রতিহত করবো।
নির্বাচন না দিয়ে সরকার বিভিন্ন পদে তাদের দলের লোকদের বসাচ্ছে, যা ঠিক নয়। তিনি অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান জামায়াত আমির।
ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট মহানগরী নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, সিলেট মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমির জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শুরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদ প্রমুখ।
ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকায় আসায় স্থানীয় লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে যান। তাঁকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অতিথিদের সঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।





















