মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো

- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / 73
এক-এগারোর আলোচিত চরিত্র সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিক করে ঢাকা মহানগর ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তার ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারার একটি এলাকা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলার তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পেয়েছি। এর মধ্যে ফেনী জেলায় তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেসব মামলায় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ফেনী জেলায় আরো তিনটি মামলা এবং ডিএমপিতে পাঁচটি মামলাসহ মোট ৮টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুদক এবং সিআইডিতে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান ইইউ প্রধানের
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মাসুদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বনানী, পল্টন, কতোয়ালী, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে ডিবির তদন্তাধীন পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পল্টন থানার মামলাটি মানবপাচার মামলা। উনি ওই মামলার তিন নম্বর এজাহরভুক্ত আসামি। এই মামলায় মোট ১০১ জন আসামি রয়েছে।
ডিবি প্রধান বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে তাকে ধরার চেষ্টা করছি। গতকাল আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তিনি বারিধারার বাসায় অবস্থান করছেন। পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার সহযোগিতায় তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।
প্রসঙ্গত, ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের এক-এগারোর পট পরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন এবং পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
সমন্বয় কমিটির অধীনেই এক-এগারোর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হতো।
সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো।
২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয়। এরপর তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর সোনাগাজী-দাগনভূঞা আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যও হন মাসুদ উদ্দিন। অবসরগ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোঁরাসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।























