ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 51

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের (আদেশ নং ১) অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আজকের অধিবেশনে ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন।

একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেছি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে নোটিশ জমা দিয়েছি। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে আমি এই নোটিশটি উত্থাপন করছি। আপনি আলোচনার জন্য এটি মঞ্জুর করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

তার এই বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজনীতি ছাড়লেন চট্টগ্রামের সেই আ. লীগ নেতা

আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে বারবার মূল বক্তব্যে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি দয়া করে আপনার কথা শেষ করুন।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি অনুমতি না দিলে, দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার।’

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব নিয়ে সরকারেরও বলার আছে। তবে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পরেই এটি আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে অন্য সদস্যদের অধিকার রক্ষিত হয়।

এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দিচ্ছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্পিকারের কথা মতোই আমি প্রশ্নোত্তর পর্বের পর দাঁড়িয়েছি। এটি আমার অধিকার এবং দায়িত্ব।’

দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডার পর স্পিকার সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের (আদেশ নং ১) অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আজকের অধিবেশনে ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন।

একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেছি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে নোটিশ জমা দিয়েছি। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে আমি এই নোটিশটি উত্থাপন করছি। আপনি আলোচনার জন্য এটি মঞ্জুর করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

তার এই বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজনীতি ছাড়লেন চট্টগ্রামের সেই আ. লীগ নেতা

আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে বারবার মূল বক্তব্যে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি দয়া করে আপনার কথা শেষ করুন।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি অনুমতি না দিলে, দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার।’

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব নিয়ে সরকারেরও বলার আছে। তবে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পরেই এটি আলোচনা হওয়া উচিত, যাতে অন্য সদস্যদের অধিকার রক্ষিত হয়।

এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দিচ্ছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্পিকারের কথা মতোই আমি প্রশ্নোত্তর পর্বের পর দাঁড়িয়েছি। এটি আমার অধিকার এবং দায়িত্ব।’

দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডার পর স্পিকার সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।