পরিকল্পনা ছাড়া অনলাইন ক্লাস চালু করা হতে পারে আত্মঘাতী: পরওয়ার

- আপডেট সময় : ০৫:৪২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / 49
দেশের সব মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী, যা মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় নেওয়া এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করা কখনোই কাম্য হতে পারে না। সত্যিই যদি জ্বালানি সংকট থেকে থাকে, তবে রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্যান্য সব খাত সচল রেখে তার দায় কেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শত্রুরা কখনো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারবে না
অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে জামায়াতের এ নেতা বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক গরিব শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়বে। অন্যদিকে, অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়বে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাস দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা মানে জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করা।
কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে সময় অনলাইন ক্লাসের নেতিবাচক প্রভাব ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’ এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে শ্রেণি-উপযোগী যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি এবং ময়মনসিংহের মতো প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও উঠে এসেছে যে, অনলাইন ক্লাসের সময়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ও শিশুশ্রম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং জুলাই বিপ্লব ও তৎপরবর্তী সময়ের অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এই মুহূর্তে শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করা সবচেয়ে জরুরি হলেও তার পরিবর্তে আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। অবিলম্বে এ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ না নিলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।






















