ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 74

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। যার কারণে তিস্তা নদীতে কমলা সংকেত জারি করেছে বাপাউবো।

অপরদিকে বাংলাদেশে তিস্তার উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদয়ার ও দার্জিলিং জেলায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতের দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে আসছে। ফলে তিস্তার পানিপ্রবাহ বেড়ে রংপুরসহ নদী তীরবর্তী নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি আরও বাড়লে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তিস্তাসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি পানিতে ডুবতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বর্ন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পয়েছে। যা আগামী তিন দিন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘন্টায় উক্ত নদীসমূহ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এলাকায় সল্পমেয়াদী বর্ন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়ার পয়েন্টে সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার (৫২.১৫) ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি একই সময় বিপৎসীমার (২৯.৩০) ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ পাঠক) নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ছিল ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৬টায় তা ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটারে পৌঁছায়। তবে সকাল ৯টায় পানি ৮ সেন্টিমিটার কমে ৫২ দশমিক শূন্য ২ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। যা দুপুর ১২টায় একই ছিল। বিকাল ৩টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে এসে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ০০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে দুপুর ১২টায় তিস্তার পানির প্রবাহ একই থাকলেও দুধকুমার নদীর পানি দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার (২৬.০৫) দুই দশমিক ২৩ (২৩.৮২) সেন্টিমিটার নিচে এবং দুধকুমার নদীর বিপদসীমার (২৯.০৬) ১ দশমিক ০৫(২৮.০১) সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে এখনো চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেনি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর বিভাগের তত্বাধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপারে ভাঙ্গন পরিস্থিতি নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিস্তা পারে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে বহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা নদ-নদীতে আপাতত বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

প্রকাশ থাকে যে, বাংলাদেশের ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারেজের উজানের ৬৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভারতে গজলডোবা ও দোমোহনী তিস্তা নদীর পয়েন্ট। সেখানে শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এখানে বিপদসীমা ৮৫ দশমিক ৯৫। শনিবার (২০ জুন) দুপুর ২টায় ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি কমে বিপদসীমার ৮৫ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বাংলাদেশ অংশ তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত না হলেও শনিবার ২৪ ঘন্টায় ভারতের তিস্তার মেখলীগঞ্জ পয়েন্টে ৮.৪ মিলিমিটার ও দোমোহনী পয়েন্টে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে সংশিষ্ট সূত্র মতে জানা গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। যার কারণে তিস্তা নদীতে কমলা সংকেত জারি করেছে বাপাউবো।

অপরদিকে বাংলাদেশে তিস্তার উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদয়ার ও দার্জিলিং জেলায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতের দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে আসছে। ফলে তিস্তার পানিপ্রবাহ বেড়ে রংপুরসহ নদী তীরবর্তী নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি আরও বাড়লে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তিস্তাসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি পানিতে ডুবতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বর্ন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পয়েছে। যা আগামী তিন দিন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘন্টায় উক্ত নদীসমূহ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এলাকায় সল্পমেয়াদী বর্ন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়ার পয়েন্টে সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার (৫২.১৫) ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি একই সময় বিপৎসীমার (২৯.৩০) ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ পাঠক) নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ছিল ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৬টায় তা ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটারে পৌঁছায়। তবে সকাল ৯টায় পানি ৮ সেন্টিমিটার কমে ৫২ দশমিক শূন্য ২ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। যা দুপুর ১২টায় একই ছিল। বিকাল ৩টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে এসে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ০০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে দুপুর ১২টায় তিস্তার পানির প্রবাহ একই থাকলেও দুধকুমার নদীর পানি দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার (২৬.০৫) দুই দশমিক ২৩ (২৩.৮২) সেন্টিমিটার নিচে এবং দুধকুমার নদীর বিপদসীমার (২৯.০৬) ১ দশমিক ০৫(২৮.০১) সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে এখনো চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেনি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর বিভাগের তত্বাধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপারে ভাঙ্গন পরিস্থিতি নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিস্তা পারে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে বহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা নদ-নদীতে আপাতত বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

প্রকাশ থাকে যে, বাংলাদেশের ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারেজের উজানের ৬৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভারতে গজলডোবা ও দোমোহনী তিস্তা নদীর পয়েন্ট। সেখানে শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এখানে বিপদসীমা ৮৫ দশমিক ৯৫। শনিবার (২০ জুন) দুপুর ২টায় ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি কমে বিপদসীমার ৮৫ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বাংলাদেশ অংশ তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত না হলেও শনিবার ২৪ ঘন্টায় ভারতের তিস্তার মেখলীগঞ্জ পয়েন্টে ৮.৪ মিলিমিটার ও দোমোহনী পয়েন্টে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে সংশিষ্ট সূত্র মতে জানা গেছে।