ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন, বিশেষ ঘোষণা মোদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 7

ভারতে চলমান ‘জেনজি আন্দোলন’ রাজধানী দিল্লি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভারতীয়রাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান ও পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।

ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।”

“যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দাবি, কয়েকজন সদস্যকে ধাওয়াও করা হয়।

দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার, একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল এবং একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, সংসদ মার্গের পার্ক হোটেল এলাকার কাছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেয় পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, সহিংসতা আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ সময় লাউডস্পিকার সংযুক্ত একটি পুলিশ বাসে একজন স্বেচ্ছাসেবককে দাঁড় করিয়ে সংসদ মার্গ এলাকায় ঘোরানো হয়। তিনি মাইকে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আন্দোলনের প্রভাব দেশের বাইরেও পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে প্রবাসী ভারতীয়রা সমাবেশ করেন। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত সংঘর্ষ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানী দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন, বিশেষ ঘোষণা মোদির

আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতে চলমান ‘জেনজি আন্দোলন’ রাজধানী দিল্লি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভারতীয়রাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান ও পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।

ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।”

“যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দাবি, কয়েকজন সদস্যকে ধাওয়াও করা হয়।

দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার, একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল এবং একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, সংসদ মার্গের পার্ক হোটেল এলাকার কাছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেয় পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, সহিংসতা আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ সময় লাউডস্পিকার সংযুক্ত একটি পুলিশ বাসে একজন স্বেচ্ছাসেবককে দাঁড় করিয়ে সংসদ মার্গ এলাকায় ঘোরানো হয়। তিনি মাইকে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আন্দোলনের প্রভাব দেশের বাইরেও পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে প্রবাসী ভারতীয়রা সমাবেশ করেন। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত সংঘর্ষ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানী দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।