ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি অর্থবছরে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 6

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতির কারণে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে চলতি অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সরকার রপ্তানিমুখী ব্যবসা উৎসাহিত করতে বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার নানা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হয়।

রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হতে পারে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তব পরিবর্তন হয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করেছিল। পরে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন-১২২-এর আওতায় ভারসাম্যহীন পরিশোধ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে। পরে সেকশন-৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে শুল্কের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় বহাল রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ৬০টি দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও চলতি অর্থবছরে আরও উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছু নীতিগত অনিশ্চয়তা ছিল। তবে এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নীতিগত স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা ফিরে এসেছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বিসিকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শিল্প প্লটগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চলতি অর্থবছরে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য সরকারের

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতির কারণে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে চলতি অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সরকার রপ্তানিমুখী ব্যবসা উৎসাহিত করতে বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার নানা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হয়।

রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হতে পারে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তব পরিবর্তন হয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করেছিল। পরে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন-১২২-এর আওতায় ভারসাম্যহীন পরিশোধ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান, যা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে। পরে সেকশন-৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে শুল্কের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় বহাল রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ৬০টি দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও চলতি অর্থবছরে আরও উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছু নীতিগত অনিশ্চয়তা ছিল। তবে এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নীতিগত স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা ফিরে এসেছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বিসিকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শিল্প প্লটগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।