ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপি হিসেবে সরওয়ার আলমগীরের দ্বায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / 9

এমপি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের শপথ বৈধ। দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এমপি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আজ (বুধবার,২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন করার সুযোগ পান তিনি। কিন্তু এই আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করা হলে নির্বাচনের ফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফল প্রকাশ করা হয়নি। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। সেদিন সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্যের শপথ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন।

আদালতে ওইদিন বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আপিলকারী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।Politics (Right)

এর আগে, সারোয়ার আলমগীরের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নুরুল আমীন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চান। আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই দুইদিন শুনানি নিয়ে আদেশের দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।

ভোটের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে।

ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন। এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত লিভ মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। আদালতের নির্দেশনার কারণে ওই সময় তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।

গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের পর ওইদিন গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সন্ধ্যায় সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন নুরুল আমীন।

আবেদনে বলা হয়, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে এবং তাকে শপথ পড়ানো হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এমপি হিসেবে সরওয়ার আলমগীরের দ্বায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

এমপি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের শপথ বৈধ। দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এমপি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আজ (বুধবার,২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন করার সুযোগ পান তিনি। কিন্তু এই আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করা হলে নির্বাচনের ফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফল প্রকাশ করা হয়নি। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। সেদিন সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্যের শপথ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন।

আদালতে ওইদিন বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আপিলকারী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।Politics (Right)

এর আগে, সারোয়ার আলমগীরের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নুরুল আমীন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চান। আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই দুইদিন শুনানি নিয়ে আদেশের দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।

ভোটের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে।

ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন। এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত লিভ মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। আদালতের নির্দেশনার কারণে ওই সময় তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।

গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের পর ওইদিন গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সন্ধ্যায় সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন নুরুল আমীন।

আবেদনে বলা হয়, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে এবং তাকে শপথ পড়ানো হয়।