জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬ জন
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 4
জুলাই মাসে দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। এছাড়া ১০৬ জন পথচারী এবং ৫১ জন চালক ও পরিবহন সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
একই সময়ে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৩৮ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন। এরপর থ্রি-হুইলারের ৯৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ২৬ জন, বাসের ২১ জন, ট্রাক ও পিকআপের ১৯ জন, মাইক্রোবাসের ৭ জন এবং রিকশা ও সাইকেলের ৫ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি গ্রামীণ সড়কে, ৬৬টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্য স্থানে ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি ১৬৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এছাড়া ১২৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৮টি পথচারীকে চাপা, ৫৪টি পেছন থেকে ধাক্কা এবং ৯টি অন্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে (২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ)। এরপর রাতে ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিকেলে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১২ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ভোরে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন শিক্ষার্থী, ২৭ জন ব্যবসায়ী, ২৩ জন রাজনৈতিক কর্মী, ১৭ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, ১৬ জন এনজিও কর্মী, ১৪ জন ব্যাংক ও বীমা খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, পরিবহন খাতে সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে।























জুলাই জাদুঘর আজ থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে