ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমালোচনার মুখে ক্ষমা চাইল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করে সদস্য দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ফিফা। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটির নেতৃত্ব আবারও সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে বুধবার ফিফার শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছিল, তা আরও ভালোভাবে করা উচিত ছিল।

এই ঘটনায় ফিফা কাউন্সিলের সদস্য ও ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আলাদা চিঠি পাঠিয়ে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে ফিফা একই বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ার পরও সংস্থার সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘আক্রমণ’ আর সহ্য করা হবে না। নিজেদের সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

রাবাতের জরুরি বৈঠকে ইনফান্তিনোর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম ও সংস্থার ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা। বৈঠক শেষে তাদের বহনকারী গাড়ি ফিফার আফ্রিকা অফিস ত্যাগ করতে দেখা যায়।

গত সপ্তাহে ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তার ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হতো, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করার কথা বলেছিল ফিফা।

তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশের পর বিতর্ক আরও বাড়ে।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফাসহ বিভিন্ন পক্ষ অভিযোগ তোলে, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই এবং সুশাসনের নীতিমালা উপেক্ষা করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি হওয়ার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে ঘিরে এটিকেই সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করলেও সমালোচকদের ক্ষোভ কমেনি। বিশেষ করে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ফুটবলের আত্মা বিক্রি করার’ অভিযোগ এনে ইউয়েফা জানিয়েছে, তার নেতৃত্বের ওপর তাদের আর আস্থা নেই।

আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও বুধবার ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এত বড় একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করাটা যে কোনো নেতার জন্য ‘মারাত্মক ব্যর্থতা।’ তার ভাষায়, “মি. ইনফান্তিনোর প্রতি আমার আর কোনো আস্থা নেই।”

ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পুরো ঘটনাকে “দুঃখজনক ও নিন্দনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তিনি লিখেছেন, “মানুষ, অস্থির সময় ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আসে-যায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান, তার লক্ষ্য ও বিশ্ব ফুটবলের প্রতি দায়িত্ব থেকে যায়।” বার্তায় ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামোরও বলেছিলেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থার কর্মীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল এবং এটি মূলত একজন ব্যক্তির প্রকল্প ছিল।

ঘটনার জেরে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেছেন। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তৈরির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না এবং এটি প্রত্যাহার করা ছিল ‘প্রয়োজনীয়’ সিদ্ধান্ত।

পর্তুগালের সাবেক তারকা লুইস ফিগো প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। আর ইউয়েফার সহ-সভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টারের মতে, এই বিতর্ক ফিফা সভাপতির নেতৃত্বকে সরাসরি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সমালোচনার মুখে ক্ষমা চাইল ফিফা

আপডেট সময় : ০১:১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করে সদস্য দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ফিফা। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটির নেতৃত্ব আবারও সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে বুধবার ফিফার শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছিল, তা আরও ভালোভাবে করা উচিত ছিল।

এই ঘটনায় ফিফা কাউন্সিলের সদস্য ও ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আলাদা চিঠি পাঠিয়ে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে ফিফা একই বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ার পরও সংস্থার সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘আক্রমণ’ আর সহ্য করা হবে না। নিজেদের সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

রাবাতের জরুরি বৈঠকে ইনফান্তিনোর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম ও সংস্থার ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা। বৈঠক শেষে তাদের বহনকারী গাড়ি ফিফার আফ্রিকা অফিস ত্যাগ করতে দেখা যায়।

গত সপ্তাহে ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তার ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হতো, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করার কথা বলেছিল ফিফা।

তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশের পর বিতর্ক আরও বাড়ে।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফাসহ বিভিন্ন পক্ষ অভিযোগ তোলে, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই এবং সুশাসনের নীতিমালা উপেক্ষা করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি হওয়ার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে ঘিরে এটিকেই সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করলেও সমালোচকদের ক্ষোভ কমেনি। বিশেষ করে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ফুটবলের আত্মা বিক্রি করার’ অভিযোগ এনে ইউয়েফা জানিয়েছে, তার নেতৃত্বের ওপর তাদের আর আস্থা নেই।

আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও বুধবার ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এত বড় একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করাটা যে কোনো নেতার জন্য ‘মারাত্মক ব্যর্থতা।’ তার ভাষায়, “মি. ইনফান্তিনোর প্রতি আমার আর কোনো আস্থা নেই।”

ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পুরো ঘটনাকে “দুঃখজনক ও নিন্দনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তিনি লিখেছেন, “মানুষ, অস্থির সময় ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আসে-যায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান, তার লক্ষ্য ও বিশ্ব ফুটবলের প্রতি দায়িত্ব থেকে যায়।” বার্তায় ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামোরও বলেছিলেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থার কর্মীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল এবং এটি মূলত একজন ব্যক্তির প্রকল্প ছিল।

ঘটনার জেরে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেছেন। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তৈরির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না এবং এটি প্রত্যাহার করা ছিল ‘প্রয়োজনীয়’ সিদ্ধান্ত।

পর্তুগালের সাবেক তারকা লুইস ফিগো প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। আর ইউয়েফার সহ-সভাপতি লরা ম্যাকঅ্যালিস্টারের মতে, এই বিতর্ক ফিফা সভাপতির নেতৃত্বকে সরাসরি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।