ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপি এখন জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খাঁন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেক নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে তাসনিম জারাও রয়েছেন। এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এসব তরুণ নেতা দলটি ছেড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে মূলত এনসিপি বলতে কিছু নেই। যা আছে, তা জামায়াতের ‘শিশু সংগঠন’।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি এখন গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করছে। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর শফিকুর রহমানের ‘মুখোশ’ উন্মোচিত হয়েছে। তার দাবি, শফিকুর রহমানই সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই প্রথম বেইমানি করেছেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম আগে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারাই জামায়াতের ‘পকেটবন্দি’ হয়েছে। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের সব খরচ জামায়াত দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক দফার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা নাহিদ ইসলাম দিয়েছিলেন—এটি তারা স্বীকার করেন। তবে ওই এক দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল দেশের জনগণ।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, বিরোধী দলের অনেক এমপি এখন সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সমান সুযোগ-সুবিধা দাবি করছেন। তার মতে, তারা সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এরপরও সরকারের বিরুদ্ধে তারা বিষোদগার করছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিরোধী দল কোনো সুযোগ-সুবিধা পেত না। সেই তুলনায় বিএনপি সরকার বিরোধী দলকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এবং মূল্যায়ন করছে। এরপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থাকে ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এনসিপি এখন জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় : ০২:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেক নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে তাসনিম জারাও রয়েছেন। এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এসব তরুণ নেতা দলটি ছেড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে মূলত এনসিপি বলতে কিছু নেই। যা আছে, তা জামায়াতের ‘শিশু সংগঠন’।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি এখন গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করছে। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর শফিকুর রহমানের ‘মুখোশ’ উন্মোচিত হয়েছে। তার দাবি, শফিকুর রহমানই সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই প্রথম বেইমানি করেছেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম আগে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারাই জামায়াতের ‘পকেটবন্দি’ হয়েছে। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের সব খরচ জামায়াত দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক দফার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা নাহিদ ইসলাম দিয়েছিলেন—এটি তারা স্বীকার করেন। তবে ওই এক দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল দেশের জনগণ।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, বিরোধী দলের অনেক এমপি এখন সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সমান সুযোগ-সুবিধা দাবি করছেন। তার মতে, তারা সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এরপরও সরকারের বিরুদ্ধে তারা বিষোদগার করছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিরোধী দল কোনো সুযোগ-সুবিধা পেত না। সেই তুলনায় বিএনপি সরকার বিরোধী দলকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এবং মূল্যায়ন করছে। এরপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থাকে ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।