ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, রোববার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বুধবার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 4

সব হিসেবের সমীকরণ মিললে আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি পাবে বাংলাদেশ। যিনি হবেন দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি। তবে সব মহলে এখন আলোচনা— কে হতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা। যিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হবেন রাষ্ট্রপতি হয়ে।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এর আগে আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বিএনপি। এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরই বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসছে। বিষয়টি আলোচিত হয় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামেও। বের হয়ে সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তবে একাধিক সূত্র বলছে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তাকে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। বাকি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট লাগবে ১৭৫টি। কাজেই বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দিলে সেই ব্যক্তিই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন তা আর অংক কষে বের করার প্রয়োজন নাই।

১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই।

যখন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার মনে হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে পেরে উঠছেন না তখনই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেয়া হয়েছে। একবার দুবার নয় শেখ হাসিনার শাসনামলে ১১ বার জেলে গিয়েছিলেন মির্জা আলমগীর। সবমিলিয়ে জেলে ছিলেন সাড়ে ৩ বছর। শেষে এমন অবস্থা হয় নাশকতার মামলায় মানেই হাসতে হাসতে মির্জা ফখরুলের জেল যাত্রা।

রাজনৈতিক বাবার সন্তান মির্জা ফখরুল নিজেও যে রাজনীতিবিদ বনে যাবেন তা হয়ত শিক্ষকতার চাকরি করার সময় ভাবেননি। কিন্তু ১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সেই থেকে শুরু। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যখন দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে, তখন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। বিএনপির সঙ্গে যাত্রার শুরুটা সেখানেই শুরু হয়।

১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে হেরে গেলেও, থেমে যাননি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদে যান ঠাকুরগাঁওবাসীর কথা বলতে। শুধু প্রখর ব্যক্তিত্বের কারণে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।

প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তন্নতন্ন করেও বের করতে পারেনি ওয়ান ইলেভেনের সরকার।

মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েও, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় নিজের ব্যক্তিগত ইমেজের রাজনীতি করে যান। তবে তার ঘাড়ে দায়িত্ব পরে বিএনপি সামলানোর। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন এবং বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অনেকেই বলেন, অন্য কেউ হলে এই লোভ সামলানো কঠিন হয়ে যেতো।

তবে, এবার শেষবার ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে যখন ভোট চাইতে যান জীবন সায়াহ্নে থাকা মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, এবারই তার শেষ ভোট। হলোও তাই। নিজেকে রাজনীতির অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। যদি সব সমীকরণ মিলে যায় তবে বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা তিনিই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বুধবার

আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সব হিসেবের সমীকরণ মিললে আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি পাবে বাংলাদেশ। যিনি হবেন দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি। তবে সব মহলে এখন আলোচনা— কে হতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা। যিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হবেন রাষ্ট্রপতি হয়ে।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এর আগে আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বিএনপি। এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপরই বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসছে। বিষয়টি আলোচিত হয় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামেও। বের হয়ে সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তবে একাধিক সূত্র বলছে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তাকে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। বাকি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট লাগবে ১৭৫টি। কাজেই বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দিলে সেই ব্যক্তিই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন তা আর অংক কষে বের করার প্রয়োজন নাই।

১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই।

যখন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার মনে হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে পেরে উঠছেন না তখনই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেয়া হয়েছে। একবার দুবার নয় শেখ হাসিনার শাসনামলে ১১ বার জেলে গিয়েছিলেন মির্জা আলমগীর। সবমিলিয়ে জেলে ছিলেন সাড়ে ৩ বছর। শেষে এমন অবস্থা হয় নাশকতার মামলায় মানেই হাসতে হাসতে মির্জা ফখরুলের জেল যাত্রা।

রাজনৈতিক বাবার সন্তান মির্জা ফখরুল নিজেও যে রাজনীতিবিদ বনে যাবেন তা হয়ত শিক্ষকতার চাকরি করার সময় ভাবেননি। কিন্তু ১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সেই থেকে শুরু। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যখন দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে, তখন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। বিএনপির সঙ্গে যাত্রার শুরুটা সেখানেই শুরু হয়।

১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে হেরে গেলেও, থেমে যাননি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদে যান ঠাকুরগাঁওবাসীর কথা বলতে। শুধু প্রখর ব্যক্তিত্বের কারণে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।

প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তন্নতন্ন করেও বের করতে পারেনি ওয়ান ইলেভেনের সরকার।

মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েও, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় নিজের ব্যক্তিগত ইমেজের রাজনীতি করে যান। তবে তার ঘাড়ে দায়িত্ব পরে বিএনপি সামলানোর। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন এবং বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অনেকেই বলেন, অন্য কেউ হলে এই লোভ সামলানো কঠিন হয়ে যেতো।

তবে, এবার শেষবার ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে যখন ভোট চাইতে যান জীবন সায়াহ্নে থাকা মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, এবারই তার শেষ ভোট। হলোও তাই। নিজেকে রাজনীতির অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। যদি সব সমীকরণ মিলে যায় তবে বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা তিনিই।