আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সেই পথেই আপা হেঁটেছিলেন: জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ০৩:১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর এখন যে পথে হাঁটছেন, যে পথে আপা হেঁটেছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটতেছেন। আপা যাওয়ার আগে বলত, ‘আমি পালাই না, অমুকের মেয়ে পালায় না।’ কী হয়েছে এখন? পালাইছে! বাচ্চারা স্লোগান দিয়েছিল—’পালাইছে রে পালাইছে!’ তাই না?
এই পথে যারাই হাঁটবেন, তাদেরকে পালাতে হবে। এই পথ পালানোর পথ! এই পথে হাঁটলে আপনি মক্কা যাইতে পারবেন না, আপনি দিল্লি চলে যাবেন। এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি! এদেশের মানুষ দিল্লির খবরদারি বাংলাদেশের উপর চায় না।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা কাপুরুষ নই, দুর্বল নই; জাতির প্রয়োজনের সময় আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই। বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, কোনো ফ্যাসিবাদ বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের সব পথ বন্ধ করতে চাই। জনগণের রায় মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, এখানে একজন প্রশাসক আছেন নিশ্চয়ই, তাই না? তিনি তো বিএনপি করতেন না কোনোদিন। হ্যাঁ? জোরে বলেন, করতেন কিনা? এইটা কী হলো? জেলায় যাকে প্রশাসক বসানো হয়েছে, তিনিও বিএনপি করতেন না। তিনিও করতেন? এটা কী হলো? রংপুর সিটি কর্পোরেশনে যাকে প্রশাসক বসানো হয়েছে, তিনিও বিএনপি করতেন না। করতেন? এটা কী হলো?
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা—সকল জায়গায় কমিটিগুলোর দখল নিতে হবে। কেন নিতে হবে, জানেন? ওখানে মধু আছে। চুষলে জিহ্বায় মজা লাগে। হারাম! ওখান থেকে হারাম উপায়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়, অবৈধ সুবিধা। এই জন্যই পাগল! শিক্ষক নিয়োগ দিতে পয়সা, পিয়ন নিয়োগ দিতে পয়সা, ছাত্র-ছাত্রীদের টিফিনের পয়সা থেকেও পয়সা! সব জায়গায় চুরি-চামারি!
এই চোরের হাত আমরা বন্ধ করতে চাই। চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই। সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ, সকলের জন্য সমান ইনসাফ আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, এর জন্যই ছিল গণঅভ্যুত্থান। আপনারা রায় দিলেন, সরকার এখন যারা আছে তারাও বলছিল ‘রায় দেন, হ্যাঁ বলুন’। ‘হ্যাঁ’ সবাই বললাম, এখন আমরা ‘হ্যাঁ’ এর উপরে আছি, তারা ‘না’ হয়ে গেছে। আমি পরিষ্কার বলছি—গণভোট না মানলে শুধু ‘না’ হবেন না, একসময় ‘নাই’ হয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, জনতার রায়কে অগ্রাহ্য-অপমান করে অতীতে কেউ টিকে নাই। শান্তি পায় নাই, সম্মান পায় নাই, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারে নাই। ১৪, ১৮, ২৪-এর নির্বাচন তার প্রমাণ। আপনারাও যদি তামাশা শুরু করেন, তাহলে ভাইরাস যখন বসবে আপনাদের ঘাড়ে, তখন কিন্তু উপসর্গ সমানই দেখা দেবে।
এখন যারা আপনাদেরকে তালে তালে হাওয়া দিচ্ছে, ‘আলবাত, আলবাত, আলবাত’—খুব ভালো! যা করছেন, চমৎকার! এই বাতাস একদিন আপনাদেরকে বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। আমরা চাই না, কারণ আপনারা مظلوم (মজলুম) ছিলেন। আমরা চাই আপনারা ঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের রায় মেনে নিন, সংস্কার সাধন করুন, ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাস্তা খুলে দিন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে খুন, হত্যা ও নানা অপরাধ বেড়েই চলেছে। তিনি নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীসহ সারাদেশে খুন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
এর আগে, সকালে সাঘাটার বোনারপাড়ায় পৌঁছে নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

























রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী: চিফ হুইপ