ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা-শিশুর পুষ্টি সচেতনতায় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার উদ্যোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 4

শিশু, কিশোরী, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি এবং শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ঢাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ইউনিসেফ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ বিষয়ে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, ধর্মীয় নেতারা সমাজের মানুষের কাছে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য। তাঁরা ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আগ্রহী ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মহাপরিচালক বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা, মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ মা ও শিশুই একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা জরুরি।

তারা বলেন, দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জুমার খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল, ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক পরামর্শ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে মা ও শিশুকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS)সহ বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, কিশোরী এবং ০-৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টিঘাটতি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়েও পুষ্টি বিষয়ে সঠিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের কারণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।

অ্যাডভোকেসি সভায় মা ও শিশুর পুষ্টি ও বিকাশের পাঁচটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো হলো—গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি ও মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশন (এমএমএস), ০-২৩ মাস বয়সী শিশুর পুষ্টি, কিশোরীদের পুষ্টি, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ এবং শিশুদের অতিপুষ্টি বা স্থূলতা প্রতিরোধ।

সভায় এসব বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নেওয়া হয়। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির জন্য সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-উপকরণ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে মা ও শিশুর পুষ্টি বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব। পাশাপাশি জনগণকে সঠিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি আচরণে উদ্বুদ্ধ করা যাবে।

এ লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও কমিউনিটির মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব বলেও সভায় মত দেওয়া হয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মা-শিশুর পুষ্টি সচেতনতায় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শিশু, কিশোরী, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি এবং শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ঢাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ইউনিসেফ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ বিষয়ে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, ধর্মীয় নেতারা সমাজের মানুষের কাছে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য। তাঁরা ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আগ্রহী ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মহাপরিচালক বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা, মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ মা ও শিশুই একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা জরুরি।

তারা বলেন, দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জুমার খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল, ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক পরামর্শ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে মা ও শিশুকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS)সহ বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, কিশোরী এবং ০-৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টিঘাটতি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়েও পুষ্টি বিষয়ে সঠিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের কারণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।

অ্যাডভোকেসি সভায় মা ও শিশুর পুষ্টি ও বিকাশের পাঁচটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো হলো—গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি ও মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশন (এমএমএস), ০-২৩ মাস বয়সী শিশুর পুষ্টি, কিশোরীদের পুষ্টি, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ এবং শিশুদের অতিপুষ্টি বা স্থূলতা প্রতিরোধ।

সভায় এসব বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নেওয়া হয়। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির জন্য সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-উপকরণ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে মা ও শিশুর পুষ্টি বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব। পাশাপাশি জনগণকে সঠিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি আচরণে উদ্বুদ্ধ করা যাবে।

এ লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও কমিউনিটির মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব বলেও সভায় মত দেওয়া হয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।