তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
দেশজুড়ে ব্যাংকের সাব-শাখা বাড়লেও এসব মাধ্যমে ঋণ বিতরণে উল্টো ভাটা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে সাব-শাখার মাধ্যমে সংগৃহীত আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।
এতে একদিকে গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক মানুষের ব্যাংকিং সেবায় অংশগ্রহণ বাড়লেও অন্যদিকে সাব-শাখা থেকে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের চিত্র ওঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর সাব-শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টি। মার্চে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৯২। তিন মাসে নতুন করে ৪৯টি সাব-শাখা চালু হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি গ্রামে এবং ১৯টি শহর এলাকায়। এ সময়ে আটটি সাব-শাখা বন্ধ বা অন্য শাখার সঙ্গে একীভূত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সাব-শাখার মোট আমানত মার্চের ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে জুনে হয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতের আমানত বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তুলনায় সাব-শাখায় আমানত সংগ্রহের প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণেরও বেশি।
সাব-শাখার মোট আমানতের ব্যাংক খাতের মোট আমানতে অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে মোট আমানতের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল সাব-শাখায়, জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। গ্রামীণ সাব-শাখাগুলোর আমানতের অংশও ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
আমানতের পাশাপাশি হিসাব খোলার প্রবণতাও বেড়েছে। মার্চে সাব-শাখায় আমানত হিসাব ছিল ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯৭টি। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৮টিতে। তিন মাসে নতুন করে প্রায় পাঁচ লাখ হিসাব যুক্ত হয়েছে। মোট আমানত হিসাবের মধ্যে নারীদের অংশও সামান্য বেড়ে ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
তবে ঋণের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। মার্চে সাব-শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণ ও অগ্রিমের স্থিতি ছিল ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। জুনে তা কমে হয়েছে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। যেখানে একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
সাব-শাখার মোট ঋণ ও অগ্রিমের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশ অবশ্য বেড়েছে। মার্চে যেখানে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ গ্রামীণ সাব-শাখা থেকে এসেছিল, জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। নারীদের ঋণ হিসাবের অংশও ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
তবে ঋণ হিসাবের সংখ্যা কমেছে। মার্চে সাব-শাখায় ঋণ হিসাব ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫১২টি। জুনে তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ১০টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ হিসাব কমেছে ১৩ হাজার ৫০২টি বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
এদিকে সাব-শাখা বিস্তারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা জেলা। জুন শেষে ঢাকায় ১ হাজার ৭টি সাব-শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এরপর চট্টগ্রামে ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি এবং গাজীপুরে ১৬৮টি সাব-শাখা রয়েছে।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সাব-শাখা পরিচালনা করছে আইএফআইসি ব্যাংক—১ হাজার ২২৪টি। এরপর এনআরবিসি ব্যাংকের ৬৮৮টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৩৫০টি, পূবালী ব্যাংকের ২৮১টি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ২৭১টি সাব-শাখা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালে ব্যাংকিং বুথ চালুর নীতিমালা জারি করে। পরের বছর এসব বুথকে সাব-শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৩ সালে সাব-শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়। মূলত কম ব্যয়ে ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
ব্যাংকাররা মনে করছেন, সাব-শাখার সংখ্যা ও আমানত হিসাব বাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো না গেলে সাব-শাখার আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাব-শাখায় আমানত দ্রুত বাড়ার বিপরীতে ঋণ কমে যাওয়া ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়। মানুষের সঞ্চয় ব্যাংকে আসছে, কিন্তু সেই অর্থের যথেষ্ট অংশ স্থানীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণ হিসেবে যাচ্ছে না। তাই সাব-শাখার বিস্তারকে শুধু আমানত সংগ্রহের কেন্দ্র না বানিয়ে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।






















গ্যাসের চাহিদা পূরণে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার