অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের বিভিন্ন বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, যেখানে অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। সেই শ্বেতপত্র সামনে রেখেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পর্যায়ক্রমে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের ব্যয় যথাযথভাবে নির্ধারণ না করা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দেরি, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহিতা, অর্থায়ন পরিকল্পনার ঘাটতি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এসব সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করা, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার, নিয়মিত পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস, পরিধি পরিবর্তন অথবা চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণ, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পে গুরুত্ব এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিল্প খাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ প্রণয়নের কাজ চলছে।
গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।
পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলেও জানান তিনি।
ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে শিল্পকারখানায় সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ করা হবে।
ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে আনতে চাইলে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাই ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের পাশাপাশি একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।





















সংসদ সদস্যের বক্তব্যের অধিকার রক্ষা জরুরি: শফিকুর রহমান