ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাড্ডাকাণ্ডের পর বিএনপিতে কঠোর বার্তা, শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় নয়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলের নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর কিংবা অন্য কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাংগঠনিকভাবে ছাড় না দেওয়ার বার্তা দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি বিলুপ্ত এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা দখলদারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে অনৈতিক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে কমিটি বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা-ভাঙচুরের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা অবশ্য সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের যোগসূত্র থাকার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পল্লবীর ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়।

বিএনপির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতায় আসার পর দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ দলের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এসব অভিযোগ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দলীয় পদ বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাংগঠনিক পরিচয় দিয়ে তাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে না—এমন বার্তা দিতে চাইছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থার কথাও বলা হচ্ছে।

সম্প্রতি ফেনীর জনসভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতা-কর্মীদের আচরণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় অনিয়ম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নির্ভর করবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাড্ডাকাণ্ডের পর বিএনপিতে কঠোর বার্তা, শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় নয়

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলের নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর কিংবা অন্য কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাংগঠনিকভাবে ছাড় না দেওয়ার বার্তা দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি বিলুপ্ত এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা দখলদারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে অনৈতিক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে কমিটি বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা-ভাঙচুরের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা অবশ্য সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের যোগসূত্র থাকার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পল্লবীর ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়।

বিএনপির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতায় আসার পর দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ দলের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এসব অভিযোগ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দলীয় পদ বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাংগঠনিক পরিচয় দিয়ে তাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে না—এমন বার্তা দিতে চাইছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থার কথাও বলা হচ্ছে।

সম্প্রতি ফেনীর জনসভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতা-কর্মীদের আচরণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় অনিয়ম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নির্ভর করবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর।