ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বছর পর গালফ কাপের শিরোপা জিতল সৌদি আরব

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অ্যারাবিয়ান গালফ কাপের শিরোপা জিতেছে সৌদি আরব। ঘরের মাঠের কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) ২-০ গোলে হারিয়ে আঞ্চলিক এই টুর্নামেন্টের চতুর্থ শিরোপা জিতেছে স্বাগতিকরা।

মঙ্গলবারের ফাইনালে সৌদি আরবের হয়ে গোল দুটি করেন হাম্মাম আল-হাম্মামি ও ফিরাস আল-বুরাইকান। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকরা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

১১ মিনিটে পেনাল্টি এলাকার বাইরে থেকে দারুণ শটে সৌদি আরবকে এগিয়ে দেন আল-হাম্মামি। তার গোলের পর কিং আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।

দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সৌদি আরব। নাসের আল-দোসারির নিখুঁত পাস থেকে কাছ থেকে শট নিয়ে গোল করেন আল-বুরাইকান।

১৬ মিনিটে তৃতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিল সৌদি আরব। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ইউএই গোলরক্ষক খালেদ ঈসার বিপক্ষে শট নেন সালেহ আবু আল-শামাত। তবে তার শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।

২৪ মিনিটে প্রথমবারের মতো আক্রমণে ওঠে ইউএই। নিকোলাস হিমেনেসের শটও গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

বিরতির ছয় মিনিট আগে পেনাল্টি পাওয়ার দাবি জানিয়েছিল ইউএই। ব্রুনো বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

ম্যাচ শেষে সৌদি আরবের কোচ জর্জিওস দোনিস দলের শৃঙ্খলাকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

‘অনেক কঠিন পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু খেলোয়াড়েরা মনোযোগ ও শৃঙ্খলা ধরে রেখেছে এবং মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমরা সেই কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে শিরোপায় পরিণত করেছি, যা গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টে আমরাই সেরা দল ছিলাম। এই শিরোপা ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে। একই গুণ ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে,’ ম্যাচ শেষে বলেন দোনিস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ আল-ওয়াইস দারুণ এক সেভ করে দলকে স্বস্তি দেন। বদলি হিসেবে নামা সুলতান আদেলের কাছ থেকে কাছ থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দুর্দান্ত ক্লিন শিটের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি।

গোলের সামনে আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট দোনিস। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরা কিছু ভুল করেছি এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি। আমরা নিজেদের মান উন্নত করেছি এবং খেলার ধরনও বিকশিত করেছি। আমার মনে হয়, এই ফল তাদের প্রাপ্য। এটি আমাদের কঠোর পরিশ্রমেরই প্রতিফলন।’

সৌদি আরব সর্বশেষ ২০০৪ সালে অ্যারাবিয়ান গালফ কাপের শিরোপা জিতেছিল। এবার ইউএইকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো আঞ্চলিক এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হলো ‘গ্রিন ফ্যালকনস’রা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল সৌদি আরব। তবে গালফ কাপের এই সাফল্যকে সামনে রেখে ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাসী থাকবে দলটি।

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সৌদি আরবেই অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দেশটি। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাতারের পর দ্বিতীয় কোনো উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাবে সৌদি আরব।

নিউজটি শেয়ার করুন

২২ বছর পর গালফ কাপের শিরোপা জিতল সৌদি আরব

আপডেট সময় : ১২:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অ্যারাবিয়ান গালফ কাপের শিরোপা জিতেছে সৌদি আরব। ঘরের মাঠের কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) ২-০ গোলে হারিয়ে আঞ্চলিক এই টুর্নামেন্টের চতুর্থ শিরোপা জিতেছে স্বাগতিকরা।

মঙ্গলবারের ফাইনালে সৌদি আরবের হয়ে গোল দুটি করেন হাম্মাম আল-হাম্মামি ও ফিরাস আল-বুরাইকান। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকরা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

১১ মিনিটে পেনাল্টি এলাকার বাইরে থেকে দারুণ শটে সৌদি আরবকে এগিয়ে দেন আল-হাম্মামি। তার গোলের পর কিং আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।

দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সৌদি আরব। নাসের আল-দোসারির নিখুঁত পাস থেকে কাছ থেকে শট নিয়ে গোল করেন আল-বুরাইকান।

১৬ মিনিটে তৃতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিল সৌদি আরব। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ইউএই গোলরক্ষক খালেদ ঈসার বিপক্ষে শট নেন সালেহ আবু আল-শামাত। তবে তার শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।

২৪ মিনিটে প্রথমবারের মতো আক্রমণে ওঠে ইউএই। নিকোলাস হিমেনেসের শটও গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

বিরতির ছয় মিনিট আগে পেনাল্টি পাওয়ার দাবি জানিয়েছিল ইউএই। ব্রুনো বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

ম্যাচ শেষে সৌদি আরবের কোচ জর্জিওস দোনিস দলের শৃঙ্খলাকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

‘অনেক কঠিন পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু খেলোয়াড়েরা মনোযোগ ও শৃঙ্খলা ধরে রেখেছে এবং মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমরা সেই কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে শিরোপায় পরিণত করেছি, যা গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টে আমরাই সেরা দল ছিলাম। এই শিরোপা ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে। একই গুণ ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে,’ ম্যাচ শেষে বলেন দোনিস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ আল-ওয়াইস দারুণ এক সেভ করে দলকে স্বস্তি দেন। বদলি হিসেবে নামা সুলতান আদেলের কাছ থেকে কাছ থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দুর্দান্ত ক্লিন শিটের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি।

গোলের সামনে আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট দোনিস। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরা কিছু ভুল করেছি এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি। আমরা নিজেদের মান উন্নত করেছি এবং খেলার ধরনও বিকশিত করেছি। আমার মনে হয়, এই ফল তাদের প্রাপ্য। এটি আমাদের কঠোর পরিশ্রমেরই প্রতিফলন।’

সৌদি আরব সর্বশেষ ২০০৪ সালে অ্যারাবিয়ান গালফ কাপের শিরোপা জিতেছিল। এবার ইউএইকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো আঞ্চলিক এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হলো ‘গ্রিন ফ্যালকনস’রা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল সৌদি আরব। তবে গালফ কাপের এই সাফল্যকে সামনে রেখে ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাসী থাকবে দলটি।

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সৌদি আরবেই অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দেশটি। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাতারের পর দ্বিতীয় কোনো উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাবে সৌদি আরব।