ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ গোলের ম্যাচে ব্রাজিলের শেষ হাসি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 0

শুরুটা ছিল ব্রাজিলের মতোই! দ্রুত, ছন্দময়, আত্মবিশ্বাসী। শেষটাও তাদের দখলে। কিন্তু মাঝের গল্পটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ, ভিএআরের নাটক আর একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরা। আজ ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। তবে জয়ের রাতেও পুরো স্বস্তি নেই কার্লো আনচেলত্তির দলের, চোটের কারণে ম্যাচের প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাফিনিয়াকে!

চার দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল যোগ করা সময় পর্যন্ত। এবার অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়নি। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ভ্যান্দারসনের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এক টাচে বল নিয়ন্ত্রণ করে পরের টাচেই বক্সের ওপরের কোণে এমন এক শট নেন, যা অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে চলে যায়।

গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকেরা। টনি পপোভিচের দল বরং পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণকে বারবার ব্যস্ত রাখে। জ্যাকসন আরভিন ও নেস্টরি ইরানকুন্দার গতি সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে। অন্যদিকে ব্রুনো গিমারাইসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড!

ব্রাজিলের সেই সুযোগ নষ্টের পর ম্যাচের চিত্রই পাল্টে যায়। কর্নার থেকে আলেসান্দ্রো চিরকাতির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বল ব্রাজিলের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগেছিল-এই সিদ্ধান্তে গোল বহাল থাকে।

সমতায় ফেরার পর অস্ট্রেলিয়া যেন আরও সাহসী হয়ে ওঠে। বিরতির ঠিক আগে কনর মেটক্যালফের বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও যায় তারা। ব্রাজিলের গোলরক্ষক ওতাভিওর কিছুই করার ছিল না।

তবে বিরতির আগে অস্ট্রেলিয়ার সেই লিড আর টেকেনি। দানিলোর ওপর হ্যারি সুটারের ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। এটি ব্রাজিলের জার্সিতে নয়, চলতি মৌসুমে তার ১৫তম গোল হিসেবে আসে।

কিন্তু গোল করার কিছুক্ষণ পরই রাফিনিয়ার ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। ডান উরুর পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করায় বিরতির সময় তাকে তুলে নেওয়া হয়। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে মাঠের বাইরে রাখা হয়েছে। আপাতত বড় ধরনের চোটের কথা বলা হয়নি, তবে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।

রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে নেমেই আক্রমণে প্রভাব ফেলতে শুরু করেন এনদ্রিক। তার পাসে ভিনিসিয়ুস গোলের সুযোগ পেলেও শট আটকে যায়। পরের কর্নার থেকে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের হেডও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।

অস্ট্রেলিয়াও তখন পাল্টা আক্রমণে সমান তালে জবাব দিচ্ছিল। জ্যাকসন আরভিনের সামনে থেকে শেষ মুহূর্তে বল সরিয়ে বিপদ কাটায় ব্রাজিল। চিরকাতির হেড চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। এমনকি আরভিনের পেনাল্টির দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন রেফারি। মাঠের উত্তেজনা তখন আরও বাড়তে থাকে। এনদ্রিক ও সুটারের বাগ্‌বিতণ্ডার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।

এই উত্তপ্ত সময়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে ব্রুনো গিমারাইসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। এই গোল যেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধে ফাটল ধরিয়ে দেয়।

এরপর ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করেন ইরানকুন্দা। পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন ভিনিসিয়ুস। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।

আনচেলত্তির অধীনে ১৯ ম্যাচে এটি ব্রাজিলের ১১তম জয়। তবে এই জয়ের মধ্যেও আলোচনার বড় অংশজুড়ে রাফিনিয়ার চোট। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে আট প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১৪ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের শারীরিক অবস্থা এখন ব্রাজিলের পাশাপাশি তার ক্লাবের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও রাফিনিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। টাউনসভিলে ১-১ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে তার নেওয়া কর্নার থেকেই যোগ করা সময়ে গোল পেয়েছিল ব্রাজিল। দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেই গোল করলেন, কিন্তু ম্যাচ শেষ করতে পারলেন না। ব্রাজিলের জয় যতটা স্বস্তির, রাফিনিয়ার চোটের অপেক্ষাটাও ততটাই অস্বস্তির!

নিউজটি শেয়ার করুন

৬ গোলের ম্যাচে ব্রাজিলের শেষ হাসি

আপডেট সময় : ১১:০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুরুটা ছিল ব্রাজিলের মতোই! দ্রুত, ছন্দময়, আত্মবিশ্বাসী। শেষটাও তাদের দখলে। কিন্তু মাঝের গল্পটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ, ভিএআরের নাটক আর একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরা। আজ ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। তবে জয়ের রাতেও পুরো স্বস্তি নেই কার্লো আনচেলত্তির দলের, চোটের কারণে ম্যাচের প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাফিনিয়াকে!

চার দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল যোগ করা সময় পর্যন্ত। এবার অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়নি। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ভ্যান্দারসনের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এক টাচে বল নিয়ন্ত্রণ করে পরের টাচেই বক্সের ওপরের কোণে এমন এক শট নেন, যা অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে চলে যায়।

গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকেরা। টনি পপোভিচের দল বরং পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণকে বারবার ব্যস্ত রাখে। জ্যাকসন আরভিন ও নেস্টরি ইরানকুন্দার গতি সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে। অন্যদিকে ব্রুনো গিমারাইসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড!

ব্রাজিলের সেই সুযোগ নষ্টের পর ম্যাচের চিত্রই পাল্টে যায়। কর্নার থেকে আলেসান্দ্রো চিরকাতির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বল ব্রাজিলের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগেছিল-এই সিদ্ধান্তে গোল বহাল থাকে।

সমতায় ফেরার পর অস্ট্রেলিয়া যেন আরও সাহসী হয়ে ওঠে। বিরতির ঠিক আগে কনর মেটক্যালফের বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও যায় তারা। ব্রাজিলের গোলরক্ষক ওতাভিওর কিছুই করার ছিল না।

তবে বিরতির আগে অস্ট্রেলিয়ার সেই লিড আর টেকেনি। দানিলোর ওপর হ্যারি সুটারের ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। এটি ব্রাজিলের জার্সিতে নয়, চলতি মৌসুমে তার ১৫তম গোল হিসেবে আসে।

কিন্তু গোল করার কিছুক্ষণ পরই রাফিনিয়ার ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। ডান উরুর পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করায় বিরতির সময় তাকে তুলে নেওয়া হয়। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে মাঠের বাইরে রাখা হয়েছে। আপাতত বড় ধরনের চোটের কথা বলা হয়নি, তবে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।

রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে নেমেই আক্রমণে প্রভাব ফেলতে শুরু করেন এনদ্রিক। তার পাসে ভিনিসিয়ুস গোলের সুযোগ পেলেও শট আটকে যায়। পরের কর্নার থেকে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের হেডও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।

অস্ট্রেলিয়াও তখন পাল্টা আক্রমণে সমান তালে জবাব দিচ্ছিল। জ্যাকসন আরভিনের সামনে থেকে শেষ মুহূর্তে বল সরিয়ে বিপদ কাটায় ব্রাজিল। চিরকাতির হেড চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। এমনকি আরভিনের পেনাল্টির দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন রেফারি। মাঠের উত্তেজনা তখন আরও বাড়তে থাকে। এনদ্রিক ও সুটারের বাগ্‌বিতণ্ডার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।

এই উত্তপ্ত সময়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে ব্রুনো গিমারাইসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। এই গোল যেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধে ফাটল ধরিয়ে দেয়।

এরপর ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করেন ইরানকুন্দা। পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন ভিনিসিয়ুস। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।

আনচেলত্তির অধীনে ১৯ ম্যাচে এটি ব্রাজিলের ১১তম জয়। তবে এই জয়ের মধ্যেও আলোচনার বড় অংশজুড়ে রাফিনিয়ার চোট। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে আট প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১৪ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের শারীরিক অবস্থা এখন ব্রাজিলের পাশাপাশি তার ক্লাবের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও রাফিনিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। টাউনসভিলে ১-১ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে তার নেওয়া কর্নার থেকেই যোগ করা সময়ে গোল পেয়েছিল ব্রাজিল। দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেই গোল করলেন, কিন্তু ম্যাচ শেষ করতে পারলেন না। ব্রাজিলের জয় যতটা স্বস্তির, রাফিনিয়ার চোটের অপেক্ষাটাও ততটাই অস্বস্তির!