সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে: চিফ হুইপ

- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকার তার সরলতা দেখিয়ে সবার সঙ্গে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেছে। তবে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ক্লাব প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, সরকারকে দুর্বল মনে করলে ভুল হবে।
সরকার তার সরলতা দেখিয়ে আপনাদের সবাইকে নিয়ে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেছে। সরকার সুদৃঢ় এবং অত্যন্ত কঠিন।
তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, গতকাল আমাদের একজন সংসদ সদস্য দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন। কেন পদত্যাগ করেছেন, তিনি এমন কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, যা আমাদের চেয়ারম্যান পছন্দ করেননি অথবা দেশের স্বার্থের বাইরে ছিল।
দেশের স্বার্থের বাইরে কোনো কার্যক্রম হলে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেবেন এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই তিনি তৈরি হচ্ছেন।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মানুষ, টাকা ও সুস্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। পরিবেশ, জীবন কৌশলও মানুষ চায়। একটি আন্দোলন পাঁচ বছর চলছে। একটি মানুষের বাচ্চা জন্ম নিতে নয় মাস থেকে ১০ মাস সময় লাগে, একটি গাছের ফল ফলতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। আমরা পাঁচ বছর ধরে আন্দোলন করছি। কেউ কেউ স্লোগান দেয়, আমরা শুধু গ্যাস-বিদ্যুৎ চাই।
তিনি বলেন, পেট্রলের দাম বেড়েছে। তিন কিলোমিটার, চার কিলোমিটার, পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার জন্যও জ্বালানির প্রয়োজন হয়। গ্যাস, তেল নিয়ে সংকট তৈরি হলে দুদিন ঈদ করার জন্য পেট্রলের দাম বাড়বে। এরপর সরকার সামান্য টাকা সমন্বয় করে তিনদিনের মধ্যে পেট্রলের দাম আবার কমিয়ে দেবে। আমি মাত্র তিনদিন আগে বিপিসিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনদিন আগে এত হাহাকার ছিল, সেই ফুয়েল, ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল বাংলাদেশে তিনদিনের মধ্যে কোথা থেকে এলো? আকাশ থেকে বৃষ্টি হলো, নাকি আমরা হাজার হাজার জাহাজ নিয়ে এসেছি?
চিফ হুইপ বলেন, কিছু মানুষ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। আপনারা দেখেছেন, কোনো কোনো বাড়ি ও কোনো কোনো দলের কোনো কোনো নেতার বাড়ি থেকে এসব জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে সেসব জায়গা থেকে জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। সরকার কাজ করেছে।
তিনি বলেন, আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ করতে চাই, কোনোভাবেই সরকারকে দুর্বল মনে করবেন না। সরকার তার সরলতা দেখিয়ে চেষ্টা করছে, আপনাদের সবাইকে নিয়ে কার্যক্রম চালাতে চেষ্টা করছে। সরকার সুদৃঢ় এবং অত্যন্ত কঠিন।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আপনাদের সুযোগ দিয়ে দেখা হয়েছে। আজকে আপনারা লংমার্চ করেন, লংমার্চ করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সেই ফাঁকে কাউকে ঢোকানোর চেষ্টা করছি কি না, সেটা আপনাদের ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। যারা লংমার্চ করছেন, তারা দেশের ভালো চান না মন্দ চান, সে সিদ্ধান্ত আপনাদের।
তিনি বলেন, পার্লামেন্ট খোলা, টেলিভিশন খোলা। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বললে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে। আপনারা লংমার্চ করছেন কেন? এখন তেলের সংকটের জন্য লংমার্চ করছেন। তেল এলো কোথা থেকে?
ইরান-ইরাক যুদ্ধ হয়েছে, অর্থাৎ আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ হয়েছে। সেই সময় তেলের দাম ৮২ ডলার ছিল প্রতি ব্যারেল, আর যুদ্ধের কারণে সেটা হয়েছে ২৯১ ডলার প্রতি ব্যারেল। ২৯১ ডলার আমরা সমন্বয় করব কোথা থেকে? তেলের দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগে সারা পৃথিবীতে ডিজেলের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে ডিজেল লাগে কি না বলেন দেখি। আপনারা ফেসবুকে দেখবেন, মোটরসাইকেলওয়ালারা মিছিল করছে, তেলের দাম বাড়তে দেব না। ডিজেল তো মোটরসাইকেলে লাগে না, তারা মিছিল করে কেন? এটা আপনাদের বুঝতে হবে।
চিফ হুইপ বলেন, পরিকল্পিতভাবে তারা সমস্যা তৈরি করে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এমন অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে যারা ওত পেতে বসে আছে, যারা এ দেশ লুটপাট করে খেয়েছে, ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছে, যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নষ্ট করেছে, গণতন্ত্রের সব পরিবেশ নষ্ট করেছে, সব স্তম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছে, সেই লোকগুলোকে আবার ফেরত আনতে চায়।
তিনি বলেন, তারা দেশের কল্যাণ চায় কি না, সে সিদ্ধান্ত আপনারা নেবেন। সরকার সুদৃঢ় রয়েছে। সরকার কোনো কিছু, আপনি চাঁদাবাজি বলেন আর দখলদারিত্ব বলেন, কোনো কিছু জায়েজ করে না। সরকার অত্যন্ত কঠোর। কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে এসব কার্যক্রম করার চেষ্টা করে, তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। সরকারের সরলতার কেউ অপব্যবহার করবেন না। সরকারের সুযোগকে কেউ অবমূল্যায়ন করবেন না, দুর্বলতা ভাববেন না। প্রয়োজন হলে যতদূর কঠোর হওয়া দরকার, সরকার ততটাই কঠোর হতে বাধ্য হবে এবং সরকার কঠোর হবে ইনশাআল্লাহ।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আমাদের এসব সমস্যা আছে, আমরা সমাধান করব। সংসদে আলোচনা করব। সংসদে আলোচনা করে সমাধান করার সুযোগ আছে। আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে সংসদে এসব সমস্যার সমাধান করি।
তিনি বলেন, আমি বিরোধী দলের সবাইকে দাওয়াত করি, সংসদে আসেন এবং আলোচনা করুন। এ পর্যন্ত তারা ২৬ শতাংশ আলোচনার সুযোগ পেয়েছেন, আমি ৩১ শতাংশ আলোচনার সুযোগ দিয়েছি। তারা যে বিষয়ে পার্লামেন্টে নিয়ে এসেছেন, সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আলোচনার সুযোগ থাকার পরও রাস্তায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করবেন, সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না।
চিফ হুইপ বলেন, আমাদের মধ্যে একটি নতুন কালচার চলে এসেছে। সেটা হলো অশ্লীল কালচার, গালিগালাজের কালচার। ২৪ জুলাইয়ের পর আমরা দেখছি, জাতীয় নেতা, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আপনারা এমন করবেন না। আমরা দেখেছি। দেখার একটা সীমা আছে। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি ভালো হবে না।
তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছা করলেই অনেক আইন করতে পারে, কিন্তু করে না। আপনাদের সবার দিকে তাকিয়ে সবাই মিলে একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশকে গঠন করতে চাই। দেশের মানুষ গরিব। দেশের মানুষ আজও স্বাবলম্বী হতে পারেনি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ৫৪ বছর বয়সে আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। সব মানুষ খেয়ে-পরে ভালো থাকুক, সেটি চাই।
চিফ হুইপ বলেন, যে কারণে তারেক রহমান সাহেব সরকার গঠনের পর প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রথম সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণের সুদসহ মওকুফ করা হবে। তা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ৪৫ লাখ কৃষক এর সুবিধা পেয়েছেন। গতকাল তিনি কৃষক কার্ড উদ্বোধন করেছেন। সমগ্র বাংলাদেশে আমরা দুই কোটির বেশি কৃষক কার্ড দেব।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমার মা-বোনেরা আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। তিনি মসজিদ, মাদরাসা, বিভিন্ন জায়গা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিতদের সম্মানিত করেছেন। সরকারি কোষাগার থেকে তাদের ভাতা এবং তোয়াজ দেওয়া হচ্ছে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে সিম্পল লাইফ লিড করেন। যে অফিস থেকে ৩৫ কোটি টাকা খেয়েছে এক বছরে শেখ হাসিনা, সেই অফিসে তিনি দিনে ১৫০ টাকায় ভাত খান। ইচ্ছা করলেই তিনি বেশি খরচ করতে পারেন।
তিনি বলেন, এই যে কষ্ট করা, দেশের মানুষের জন্য একটি ফল্গুধারা হৃদয়, এ হৃদয়কে আপনারা ধারণ করেন কি না, সেই চেষ্টা করে কি না, সেটা দেখেন। আমরা যদি লুটপাট করি, অন্যায় করি, তাহলে আমাদের পাশে থাকবেন না। তারেক রহমান সাহেব যদি অন্যায় করেন, আপনারা তার পাশে থাকবেন না। যদি তিনি ন্যায়ের কাজ করেন, আপনারা দৃঢ়ভাবে ইস্পাত-কঠিন শক্তি দিয়ে তার পাশে দাঁড়ান।
তিনি বলেন, তিনি দেশের ভালো করতে চান। তার গাড়ি বহর দেখবেন, তিনটা গাড়ি। তিনি ইচ্ছা করলে ৫০টা গাড়ি নিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ডেজিগনেটেড ৫০টা গাড়ি আছে। তিনি নেন না। ইচ্ছা করলে তিনি অনেক এমপি বা মন্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ সফর করতে পারেন। তিনি যান না। মাত্র ৩৫ জন নিয়ে জাতিসংঘে গেছেন। এর আগে শেখ হাসিনা ২৮৯ জনকে নিয়ে জাতিসংঘে গেছেন। হাসিনা বাংলাদেশের প্লেন নিয়ে দুদিন রেখেছেন ফিনল্যান্ডে, এরপর লন্ডনে, পরে বাংলাদেশে এসেছেন। আর তারেক রহমান একটি প্যাসেঞ্জার প্লেনে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে গেছেন, এসেছেন এমিরেটসে।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। তারা তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের শক্তি সঞ্চয় করবে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য গড়ে তুলবে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। এ ফেডারেশনের জন্য যদি আমার কিছু করার সুযোগ থাকে, ইনশাআল্লাহ আমি করব। এ ফেডারেশন যারা কার্যক্রমের আয়োজন করেছে, তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। যারা আজকের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
পরে তিনি ‘তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ক্লাব প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধন করেন।




















