৯ কোটি ৮০ লাখের সেতু এখন যেন ‘মইয়ের’ সেতু!

- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
নদীর উপর দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকার সেতু। অথচ সেতুতে ওঠার পথ নেই । ফলে স্বাভাবিক যোগাযোগের স্বপ্নপূরণ হওয়ার বদলে স্থানীয়দের পার হতে হচ্ছে মাটির ঢাল, বাঁশের অস্থায়ী পথ এমনকি মই বেয়েও।
এমনই চিত্র গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী কাওরাইদ এলাকার সুতিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটিতে।
প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগে। কিন্তু দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় সেতুটি এখনো স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হতে পারেনি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সুতিয়া নদী পারাপারে দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্ভোগ ছিল। সেই সমস্যা দূর করতে সেতু নির্মাণ শুরু হলে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও সড়ক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর কাছে যেতে বর্তমানে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মাটির পথ। কোথাও সেটি অতিরিক্ত খাড়া, কোথাও আবার মাটি ভেঙে গেছে। অনেককে সেতুতে উঠতে বাঁশের মই ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য এভাবে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শেখ বলেন, “সেতু হয়েছে, কিন্তু রাস্তা না থাকায় আমাদের কষ্ট কমেনি। কোটি টাকা খরচ করে সেতু বানানোর পরও যদি সেটি ব্যবহার করা না যায়, তাহলে মানুষের লাভ কী?”
আরেক বাসিন্দা মঞ্জুরুল করিম বলেন, “সেতুর কাজ শেষ হয়েছে অনেক দিন। অথচ দুই পাশে ওঠার রাস্তা নেই। মানুষ বাধ্য হয়ে মই ও মাটির পথ ব্যবহার করছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক করা দরকার।”
শিক্ষার্থী নাসরিন বেগম বলেন, “বৃষ্টির সময় এই পথে চলাচল করা খুবই কঠিন। সেতু থাকলেও নিরাপদভাবে ওঠানামা করতে না পারায় আমাদের দুর্ভোগ থেকেই গেছে।”
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডি গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। এটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু প্রকল্পের আওতাভুক্ত। সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে অর্থসংস্থানের বিষয়টি জটিল হয়ে আছে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করেই প্রকল্পের কাজ শেষ না করে দ্রুত দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে। তাহলে সেতুটি শ্রীপুর ও গফরগাঁওয়ের মানুষের যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
























