মেসির জাদুর সুর, জয়ের গান আর্জেন্টিনার

- আপডেট সময় : ১১:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
তিনি গোল করালেন, করলেনও— তাতেই বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা পেল দারুণ এক জয় উপহার। বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় বুয়েন্স আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বিশেষ এই ম্যাচ দেখতে আগত প্রায় ৮৫ হাজার দশর্ককে এক মুহুর্তের জন্যও খেলা থেকে চোখ সরাতে দেননি লিওনেল মেসি। আর তাঁর বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।
নিজেদের মাঠে এদিন অতিথিদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রায় ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছে লিওনেল স্কালোনির দল। গোলমুখে তারা শট নিয়েছে ১২টি। বড় সুযোগ তৈরি করেছে ৮টি। সুযোগ মিস করেছে ৪টি।
এদিন ম্যাচের তিনটি গোলই আসে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমার্ধে ৪টি অনটার্গেট শট নিয়েও গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মেসি একক নৈপুন্য দেখান। দুটি অ্যাসিস্ট এবং পেনাল্টি থেকে একটি গোল আদায় করে নেন তিনি।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের ৩১ মিনিট পর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিনিটেই কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা। তবে সেখান থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
সপ্তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পান মেসি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শট নেন তিনি। তবে বেনিনের গোলকিপার সেটি ঠেকিয়ে দেন। আর ম্যাচের দশম মিনিটে মেসিকে বিদায় জানাতে খেলা এক মিনিটের বেশি সময়ের জন্য থামানো হয়। পুরো মাঠে করতালি, আতশবাজি ও ‘মেসি’ ধ্বনিতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
১৪তম মিনিটে মেসি মাঝমাঠের ওপর থেকে বল পেয়ে এক টাচে নিকোলাস ওতামেন্দিকে সামনে বাড়িয়ে দেন। তবে আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার অফসাইডে ছিলেন। এরপর ২৪তম মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পান মেসি। ডান দিক থেকে রদ্রিগো দে পলের ক্রস পেয়ে স্লাইড করে শট নেন তিনি। তবে বলটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। দুই মিনিট পরই মেসির ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলকিপার।
৩২তম মিনিটে আবার মেসির সামনে সুযোগ আসে। লাওতারো মার্তিনেজের দ্রুতগতির ক্রস পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে ভলি করেন তিনি। তবে বলটি দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে বেনিনও আক্রমণে উঠে আসে। ৪৩তম মিনিটে জুনিয়র ওলাইতানের দূরপাল্লার শট নিচের বাঁ কোণ থেকে ঠেকান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল পেয়ে হুলিয়ান আলভারেজের শট দারুণভাবে সেভ করেন বেনিনের গোলকিপার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বল ভলিতে জালে জড়ান নিকোলাস ওতামেন্দি।
৬১তম মিনিটে আবারও মেসির ছোঁয়ায় আর্জেন্টিনা লিড দ্বিগুণ করে। বা দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল গেছে নিকো পাজের কাছে। গোলপোস্টের দিকে ঘুরে বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন বাম কোণ দিয়ে। বেনিনের গোলরক্ষকের পক্ষে এই বল ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না।
সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর পর ৭১তম মিনিটে নিজেও গোল পান মেসি। বেনিন বক্সে অগাস্টিন গিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে গোল আদায় করেন মেসি। ক্যারিয়ারে এটি তার ১২৬তম গোল। শেষ দিকে আরও একটি গোল পেতে পারতেন মেসি। তবে বারে লেগে বল ফিরে এলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল ৩-০ গোলে সমাধান হয়।



















