ভারতে দুই দিনে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, মসজিদ ভাঙ্গলো ১০ মসজিদ

- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ভারতের আসামের তিন জেলায় দুই দিনের অভিযানে ১ হাজার ১০০টির বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম স্ক্রল। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশ বাংলাভাষী মুসলিম। প্রশাসনের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমির দখল সরাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, সরকারই তাঁদের পরিবারকে কয়েক দশক আগে সেখানে বসতি গড়তে দিয়েছিল।
স্ক্রলের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ১৭ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন নগাঁওয়ের লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ছয় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙার কথা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান এক জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তা।
একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল নূর স্ক্রলকে বলেছেন, অভিযানে ১০টির বেশি মসজিদও ভাঙা হয়েছে। তাঁর দাবি, এগুলোর কয়েকটি ৫০ বছরের বেশি পুরোনো। মসজিদের সংখ্যা ও বয়সের তথ্যটি তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের হিসাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে লুতুমারি বনাঞ্চল থেকে ৫৬৩টি পরিবার উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। অভিযানের সমালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
নিজের বাড়ি হারানো ৪৪ বছর বয়সী আবদুল নূরের দাবি, ভূমিহীন হওয়ায় তাঁদের পূর্বপুরুষদের ১৯৭৪ সালে সরকার সেখানে পুনর্বাসন করেছিল। সে সময় প্রায় ৩০০ পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। উচ্ছেদ ঠেকাতে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন নূর।
গত জুনেও লুতুমারি লংজাপের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, বন বিভাগের কাজে যুক্ত এসব পরিবারকে পুরোনো তাউঙ্গিয়া বন ব্যবস্থাপনার আওতায় বসতি গড়তে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁদের সাধারণ দখলদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।























