শুরু হতে যাচ্ছে টাইফয়েড টিকা কার্যক্রম, আবেদন অনলাইনে

- আপডেট সময় : ১০:০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
- / 123
সারাদেশে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা কার্যক্রম। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এক ডোজ ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।
সোমবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ইপিআই প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান।
ইপিআই প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান জানিয়েছেন, ১ আগস্ট থেকে টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা টিকাদান শুরুর আগ পর্যন্ত চলবে। জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলেও বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যাবে এবং হাতে লিখে টিকা নেওয়ার তথ্য প্রদান করা হবে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ কর্মদিবসে স্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। যারা ক্যাম্পে আসতে পারবে না বা স্কুলে যায় না, তারা পরবর্তী ৮ দিন স্থানীয় ইপিআই কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবে।
টাইফয়েড টিকা সরবরাহ করছে গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। এক ডোজে এ ভ্যাকসিন ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম। অনলাইন নিবন্ধনের জন্য vaxepi.gov.bd/registration সাইটে জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। জন্ম নিবন্ধন থাকলে ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোডও করা যাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, টাইফয়েড জ্বর স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি সংক্রমণ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ অস্পষ্ট থাকায় শনাক্তকরণ অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে
টাইফয়েডের টিকা নিতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ধারিত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
রেজিস্ট্রেশনের জন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথমে জন্ম তারিখ দিতে হবে। দিন, মাস ও বছরের ঘর পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হবে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ। জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বরসহ সব তথ্যই ইংরেজিতে লিখতে হবে। যদিও বলা হয়েছে, কারও জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেও নিবন্ধন করা যাবে কিন্তু এখনো পর্যন্ত নিবন্ধন করতে গেলে জন্ম নিবন্ধন আবশ্যক দেখাচ্ছে। এ বিষয়টি এখনো সরকার স্পষ্ট করেনি।
>> এরপর নারী না পুরুষ ঘরটি পূরণ করতে হবে। তারপর একটি ক্যাপচা কোড পূরণের মাধ্যমে আবেদনকারীর সব তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পরের ধাপে যাওয়া যাবে।
>> পরের ধাপে গিয়ে আবেদনকারী মা-বাবার মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, পাসপোর্ট নম্বর, বর্তমান ঠিকানার ঘর পূরণ করে ‘সাবমিট’ করতে হবে। ‘সাবমিট’ করার পর মোবাইল ফোনে আসা একটি ‘ওটিপি’ দেওয়ার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হবে।
>> দ্বিতীয় ধাপে টাইফয়েড অথবা মেনিনজাইটিসের মধ্য থেকে একটি বাছাই করতে হবে। টাইফয়েড অংশে ক্লিক করলে দুটি অপশন আসবে- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নমব শ্রেণি ও সমমান পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু।
>> এখান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপশনে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, পুরো ঠিকানা, কোন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তা পূরণ করতে হবে। থানা, ওয়ার্ড নম্বর, জোনও পূরণ করতে হবে। এরপর সাবমিট করলে টিকাদান কেন্দ্রের তথ্য আসবে। যে স্কুলে শিক্ষার্থী টিকা নিতে চায়, সেটা সিলেক্ট করতে হবে।
আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত অপশনে গেলেও নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বাছাই করে নিতে হবে। এরপর ‘সাবমিট’ করতে হবে। সাবমিট করার পর ভ্যাকসিন কার্ড আসবে। সেখানে ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করতে হবে। এ কার্ড প্রিন্ট করে নিয়ে নির্ধারিত দিনে টিকাদান কেন্দ্রে যেতে হবে।
টিকা দেওয়ার পর অনলাইনেই পাওয়া যাবে টাইফয়েড ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট। এটি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সংগ্রহে রাখতে পারবেন।























