ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে তারা জনগণ থেকে ছিটকে গেছে’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 59

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা গতকাল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গিয়েছিল এবং স্বাক্ষর করেছে তারা গণঅভ্যুত্থান ও জনগণ থেকে ছিটকে গিয়েছে। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনর করা হয়। সেখানে নাহিদ জুলাই সনদ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার কারণ তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে।

গতকাল (শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর) বিএনপি-জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গেলেও আগের ঘোষণা অনুযায়ী যায়নি এনসিপি। ঠিক কী কারণে অনুষ্ঠানে এনসিপি যোগ দেয়নি তা পরিষ্কার করতেই আজ সংবাদ সম্মেলন করে দলটি।

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়েছে সেটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি প্রদানের দাবির বিষয়ে অটল থাকবে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি না হলে এর কোনো অর্থ তৈরি হবে না। এর আইনি ভিত্তি না হলে এটি গণপ্রতারণা এবং জাতির সঙ্গে একটি প্রহসন হবে। সংবিধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষযয়ে আইনি ভিত্তি না থাকলে এটা গুরুত্ব থাকবে না।’

এনসিপি জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে না গিয়ে রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়লো কী না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলামের সাফ জবাব, ‘যে দলগুলো সাক্ষর করেছে তারাই পিছিয়েছে। ফ্যাসিবাদী কায়েম রাখতেই কয়েকটি দল ’৭২ এর সংবিধান বাতিল চায় না।’

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা না করা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: সালাহউদ্দিন

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্যদলগুলো যারা সাক্ষর করেনি তাদের সঙ্গে এনসিপির দাবির কোনো মিল নেই। যারা গতকাল অনুষ্ঠানে গিয়েছিল, যে প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর নিয়েছে, গণঅভ্যুত্থান থেকে এবং জনগণ থেকে তারা ছিটকে গিয়েছে। আমরা চাই তারা জনগণের কাছে আসুক। কেউ যদি সংস্কার ইস্যুতে এনসিপির সঙ্গে না আসে তাহলে এনসিপি একাই এগিয়ে যাবে।’

এদিকে জুলাই আহতদের ওপর পুলিশি হামলা নিন্দা জানিয়ে এর বিচারের দাবি করেছে এনসিপি। একইসঙ্গে বিএনপি নেতা জুলাই আহতদের আওয়ামী দোসর বলায় নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই আমরা দেখেছি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন সাহেব, উনি গতকালের ঘটনায় জুলাইযোদ্ধা যারা গতকাল আহত হয়েছে, তাদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে তাদের আখ্যা দিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

নাহিদ বলেন, ‘হয়তো তার কাছে তথ্য না থাকার কারণে তিনি এমনটা বলেছেন। যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না, যেহেতু তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশে ছিলেন না, রাজপথে ছিলেন না- সেহেতু হয়তো তিনি জানেন না কে রাজপথে ছিল, কারা লড়াই করেছিল, কারা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের আহ্বান থাকবে তিনি তার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করবেন, আহত যোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারদের কাছে ক্ষমা চাইবেন।’

এদিকে ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছে বলেও জানান দলটির আহ্বায়ক। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল যদি সংস্কার বিষয়ে তাদের একমত নাও হয়, তাহলে একাই এনসিপি লড়বে বলেও জানান দলটির এই নেতা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, শাপলা এবং শাপলাই হবে জাতীয় নাগরিক পার্টির মার্কা। প্রতীক হিসেবে কেন শাপলা নিতে পারব না, সে বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি একটা ব্যাখা দেবেন—আমরা অন্য প্রতীক নিয়ে নেব।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলাম; আমাদের নিবন্ধনের বিষয়গুলো হওয়ার আগে থেকেই। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশন সঠিক উপায়ে গঠিত হয়নি। আমরা পুনর্গঠনের কথা বলেছিলাম… এগুলো প্রতীক ইস্যুর আগেই বলেছিলাম।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি, উদ্বেগ প্রকাশ করছি, এই নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার ইচ্ছা বা সক্ষমতা রাখে কিনা।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘যারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে তারা জনগণ থেকে ছিটকে গেছে’

আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা গতকাল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গিয়েছিল এবং স্বাক্ষর করেছে তারা গণঅভ্যুত্থান ও জনগণ থেকে ছিটকে গিয়েছে। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনর করা হয়। সেখানে নাহিদ জুলাই সনদ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার কারণ তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে।

গতকাল (শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর) বিএনপি-জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গেলেও আগের ঘোষণা অনুযায়ী যায়নি এনসিপি। ঠিক কী কারণে অনুষ্ঠানে এনসিপি যোগ দেয়নি তা পরিষ্কার করতেই আজ সংবাদ সম্মেলন করে দলটি।

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়েছে সেটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি প্রদানের দাবির বিষয়ে অটল থাকবে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি না হলে এর কোনো অর্থ তৈরি হবে না। এর আইনি ভিত্তি না হলে এটি গণপ্রতারণা এবং জাতির সঙ্গে একটি প্রহসন হবে। সংবিধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষযয়ে আইনি ভিত্তি না থাকলে এটা গুরুত্ব থাকবে না।’

এনসিপি জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে না গিয়ে রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়লো কী না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলামের সাফ জবাব, ‘যে দলগুলো সাক্ষর করেছে তারাই পিছিয়েছে। ফ্যাসিবাদী কায়েম রাখতেই কয়েকটি দল ’৭২ এর সংবিধান বাতিল চায় না।’

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা না করা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: সালাহউদ্দিন

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্যদলগুলো যারা সাক্ষর করেনি তাদের সঙ্গে এনসিপির দাবির কোনো মিল নেই। যারা গতকাল অনুষ্ঠানে গিয়েছিল, যে প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর নিয়েছে, গণঅভ্যুত্থান থেকে এবং জনগণ থেকে তারা ছিটকে গিয়েছে। আমরা চাই তারা জনগণের কাছে আসুক। কেউ যদি সংস্কার ইস্যুতে এনসিপির সঙ্গে না আসে তাহলে এনসিপি একাই এগিয়ে যাবে।’

এদিকে জুলাই আহতদের ওপর পুলিশি হামলা নিন্দা জানিয়ে এর বিচারের দাবি করেছে এনসিপি। একইসঙ্গে বিএনপি নেতা জুলাই আহতদের আওয়ামী দোসর বলায় নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই আমরা দেখেছি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন সাহেব, উনি গতকালের ঘটনায় জুলাইযোদ্ধা যারা গতকাল আহত হয়েছে, তাদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে তাদের আখ্যা দিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

নাহিদ বলেন, ‘হয়তো তার কাছে তথ্য না থাকার কারণে তিনি এমনটা বলেছেন। যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না, যেহেতু তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশে ছিলেন না, রাজপথে ছিলেন না- সেহেতু হয়তো তিনি জানেন না কে রাজপথে ছিল, কারা লড়াই করেছিল, কারা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের আহ্বান থাকবে তিনি তার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করবেন, আহত যোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারদের কাছে ক্ষমা চাইবেন।’

এদিকে ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছে বলেও জানান দলটির আহ্বায়ক। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল যদি সংস্কার বিষয়ে তাদের একমত নাও হয়, তাহলে একাই এনসিপি লড়বে বলেও জানান দলটির এই নেতা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, শাপলা এবং শাপলাই হবে জাতীয় নাগরিক পার্টির মার্কা। প্রতীক হিসেবে কেন শাপলা নিতে পারব না, সে বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি একটা ব্যাখা দেবেন—আমরা অন্য প্রতীক নিয়ে নেব।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলাম; আমাদের নিবন্ধনের বিষয়গুলো হওয়ার আগে থেকেই। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশন সঠিক উপায়ে গঠিত হয়নি। আমরা পুনর্গঠনের কথা বলেছিলাম… এগুলো প্রতীক ইস্যুর আগেই বলেছিলাম।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি, উদ্বেগ প্রকাশ করছি, এই নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার ইচ্ছা বা সক্ষমতা রাখে কিনা।’