সবজির বাজার স্থিতিশীল, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে

- আপডেট সময় : ০১:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 99
শীতের আগমনী বার্তা টোকা দিচ্ছে রাজধানীর সবজির বাজারে। তবে হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। কেজিতে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আজকের বাজারে সবচেয়ে কম দামের সবজির মধ্যে রয়েছে পেঁপে, যা প্রতিকেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে সবজির দামের চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের সবজির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ছোট আকারের ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙা ৫০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা ও ধুন্দল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা কমে প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, দেশি শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
একদিনের চাঁদাবাজি দিয়ে প্রতিদিন একটা গণভোট দেয়া যাবে: ডা. তাহের
এসব বাজারে দেখা যায়, মুদি দোকানগুলোতে মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভ্যান গাড়িতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ কিছুটা কম দামে, ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানত দুটি কারণে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দামে এমন উল্লম্ফন হচ্ছে। একটি হলো- ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা এবং অন্যটি রবি মৌসুমের পেঁয়াজ আসতে দেরি হওয়া।
কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে আজ মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
বাজারগুলোতে লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতা কেজিতে ৫০ টাকা কমে ২৫০ টাকা, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটিতে ৫ টাকা কমে ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মগবাজার কাঁচা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন তোহা। তিনি বলেন, বিগত কয়েক মাস সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। সে তুলনায় গত সপ্তাহে কিছুটা কম দামের সবজি কেনা গেছে। গত সপ্তাহে বেশিরভাগ সবজি ছিল ৬০ টাকার ঘরে। আজ আবার কিছু কিছু বেড়ে ৮০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের কয়েক মাসের তুলনায় সবজির দাম এখন কম আছে।
মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা সোহেল হোসেন বলেন, সবজির দাম অনেকটাই কমে এসেছে। গত সপ্তাহে বেশ কম দাম গেছে সবজির। কিন্তু এরপর বৃষ্টির কারণে সবজি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে গত সপ্তাহে যে সবজি ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি, আজ সেটা আবার ৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে শীত আসতে শুরু করায় সব ধরনের সবজির দামই এখন কমে যেতে থাকবে। পুরো শীত জুড়ে বাজারে প্রচুর পরিমাণে সবজি সরবরাহ থাকবে, সে সঙ্গে দামও অনেক কমে যাবে।
বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৯০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গতবছরও শীতের মৌসুমে দেখেছি দেশি হাঁস পিস প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ বছর বিক্রেতারা কেজি হিসেবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি করছে। এগুলো দেখারও কেউ নেই।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস প্রতি কেজি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, আমাদের হাতে কোনো কিছু নেই। খামারে খাদ্যের দাম বেড়েছে, বাচ্চার দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাইকারি বাজার থেকে ১৫০ টাকায় কিনে ১৭০ টাকায় বিক্রি করি, তাতেও লাভ বলতে কিছু থাকে না। ক্রেতারা গালাগাল দেন, কিন্তু দাম বাড়াচ্ছে খামার ও সরবরাহকারীরা।
রবিউল আলম নামের আরেক খুচরা বিক্রেতা বলেন, মুরগির বাজার এখন পুরোপুরি খামার নির্ভর। খাদ্যের দাম আর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা অনেক সময় পুরোনো দামে বিক্রি করলেও পরে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হয়। মানুষ ভাবছে আমরা দাম বাড়াচ্ছি, আসলে আমরাও বিপাকে।

























