ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জভেরেভকে হারিয়ে ফাইনালে আলকারাজ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 60

শরীরের প্রতিটি পেশি যখন টান ধরে আসছে, তখনও মানসিক আর শারীরিক শেষ শক্তিটুকু নিংড়ে বের করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটালেন কার্লোস আলকারাজ। আলেক্সান্ডার জভারেভকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন স্প্যানিশ তারকা।

মেলবোর্নে পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে আলকারাজ জিতেছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫ ব্যবধানে। তবে স্কোরলাইনে এই ম্যাচের নাটকীয়তা আর টানটান উত্তেজনার পুরোটা ধরা পড়ে না। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনের গতবারে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া আলকারাজ প্রথমবারের মতো শেষ চারের টিকিট কাটলেন।

রড লেভার অ্যারেনার নীল কোর্টে প্রথম দুই সেট পুরো নিয়ন্ত্রণে আলকারাজ, তখন তৃতীয় সেটে ৪-৪ গেমে সার্ভ করতে গিয়ে হঠাৎ থেমে যান তিনি। আচমকাই শরীর সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়—ঠিকমতো সার্ভ করা তো দূরের কথা, হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্ব নম্বর এক আলকারাজ চিকিৎসা বিরতি নেন, তৃতীয় বাছাই জভারেভ খানিকটা ক্ষুব্ধ তখন। ফিরে এসে আলকারাজকে দেখা যায় নিজের ছায়া হয়ে থাকা এক খেলোয়াড় হিসেবে। সেই সুযোগে ম্যাচ গড়ায় নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে।

পঞ্চম সেটে শুরুতেই ব্রেক নিয়ে এগিয়ে যান জভারেভ। ৫-৪ গেমে সার্ভ করতে নামেন ম্যাচ জয়ের জন্য। ঠিক তখনই ঘটে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন। গ্যালারির সমর্থনে উজ্জীবিত আলকারাজ ব্রেক ফেরান এবং ৬-৫ ব্যবধানে জার্মান তারকার নার্ভাস সার্ভের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান। ১০ পয়েন্টের টাইব্রেক ঠেকাতে গিয়ে চাপ নিতে পারেননি জভারেভ। জভারেভের ব্যাকহ্যান্ড মিস হতেই বিস্ময়ে কোর্টে লুটিয়ে পড়েন আলকারাজ। রোববারের ফাইনালের টিকিট তখন তার হাতে।

এই জয়ে টেনিস ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ২২ বছর বয়সী আলকারাজ। রোববার শিরোপা জিততে পারলে তিনিই হবেন ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড়। এখন তার পথে একটাই বাধা—নোভাক জোকোভিচ অথবা ইয়ানিক সিনার।

গ্র্যান্ড স্ল্যামে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আলকারাজের জন্য নতুন নয়। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট বাঁচিয়ে সিনারকে হারানোর কীর্তি এখনও টাটকা। চতুর্থ সেটের শেষ দিকে কোর্টের পেছনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বলতে শোনা যায়, ‘একটু একটু করে, চার্লি, ভামোস।’

ক্র্যাম্প ধরার আগেই আলকারাজ ছিলেন বেশি সাহসী। র‍্যালির নিয়ন্ত্রণ নেন, বড় শট খেলেন নির্দ্বিধায়। অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত আরেকটি হৃদয়ভাঙা হার নিয়েই কোর্ট ছাড়তে হয় জার্মান তারকাকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জভেরেভকে হারিয়ে ফাইনালে আলকারাজ

আপডেট সময় : ১১:২০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

শরীরের প্রতিটি পেশি যখন টান ধরে আসছে, তখনও মানসিক আর শারীরিক শেষ শক্তিটুকু নিংড়ে বের করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটালেন কার্লোস আলকারাজ। আলেক্সান্ডার জভারেভকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন স্প্যানিশ তারকা।

মেলবোর্নে পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে আলকারাজ জিতেছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫ ব্যবধানে। তবে স্কোরলাইনে এই ম্যাচের নাটকীয়তা আর টানটান উত্তেজনার পুরোটা ধরা পড়ে না। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনের গতবারে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া আলকারাজ প্রথমবারের মতো শেষ চারের টিকিট কাটলেন।

রড লেভার অ্যারেনার নীল কোর্টে প্রথম দুই সেট পুরো নিয়ন্ত্রণে আলকারাজ, তখন তৃতীয় সেটে ৪-৪ গেমে সার্ভ করতে গিয়ে হঠাৎ থেমে যান তিনি। আচমকাই শরীর সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়—ঠিকমতো সার্ভ করা তো দূরের কথা, হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্ব নম্বর এক আলকারাজ চিকিৎসা বিরতি নেন, তৃতীয় বাছাই জভারেভ খানিকটা ক্ষুব্ধ তখন। ফিরে এসে আলকারাজকে দেখা যায় নিজের ছায়া হয়ে থাকা এক খেলোয়াড় হিসেবে। সেই সুযোগে ম্যাচ গড়ায় নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে।

পঞ্চম সেটে শুরুতেই ব্রেক নিয়ে এগিয়ে যান জভারেভ। ৫-৪ গেমে সার্ভ করতে নামেন ম্যাচ জয়ের জন্য। ঠিক তখনই ঘটে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন। গ্যালারির সমর্থনে উজ্জীবিত আলকারাজ ব্রেক ফেরান এবং ৬-৫ ব্যবধানে জার্মান তারকার নার্ভাস সার্ভের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান। ১০ পয়েন্টের টাইব্রেক ঠেকাতে গিয়ে চাপ নিতে পারেননি জভারেভ। জভারেভের ব্যাকহ্যান্ড মিস হতেই বিস্ময়ে কোর্টে লুটিয়ে পড়েন আলকারাজ। রোববারের ফাইনালের টিকিট তখন তার হাতে।

এই জয়ে টেনিস ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ২২ বছর বয়সী আলকারাজ। রোববার শিরোপা জিততে পারলে তিনিই হবেন ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড়। এখন তার পথে একটাই বাধা—নোভাক জোকোভিচ অথবা ইয়ানিক সিনার।

গ্র্যান্ড স্ল্যামে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আলকারাজের জন্য নতুন নয়। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট বাঁচিয়ে সিনারকে হারানোর কীর্তি এখনও টাটকা। চতুর্থ সেটের শেষ দিকে কোর্টের পেছনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বলতে শোনা যায়, ‘একটু একটু করে, চার্লি, ভামোস।’

ক্র্যাম্প ধরার আগেই আলকারাজ ছিলেন বেশি সাহসী। র‍্যালির নিয়ন্ত্রণ নেন, বড় শট খেলেন নির্দ্বিধায়। অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত আরেকটি হৃদয়ভাঙা হার নিয়েই কোর্ট ছাড়তে হয় জার্মান তারকাকে।