চার জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২০ জনের

- আপডেট সময় : ০১:৪৭:১০ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
- / 116
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৩ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে অর্ধশত মানুষ। ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত গভীর রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত কুমিল্লা, ফেনী, নাটোর ও হবিগঞ্জে এসব প্রাণহানি ঘটে।
এরমধ্যে কুমিল্লায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হবিগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যান উল্টে নারীসহ ৪ জন এবং ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নাটোরের বড়াইগ্রামে গড়মাটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় জুলফিকার নামে এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন।
কুমিল্লা: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিন শিশু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত সবাই বাসের যাত্রী।
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহত: তিন তদন্ত কমিটি গঠন
শনিবার (২১ মার্চ) দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি পরিবহনের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সঙ্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- যশোরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৩), চাঁদপুরের চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫) এবং নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার বাবুল চৌধুরী (৫৫)।
এছাড়াও বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত অন্যরা হলেন- মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯)।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। নিহত সবাই পিকআপ ভ্যানের যাত্রী ছিলেন। তাদের কারো পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় একটি পিকআপ ও বাসের সংঘর্ষ হলে পিকআপটি উল্টে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এরপর সকাল ৯টার দিকে এলাকার লোকজন খাদে একটি পিকআপ উল্টে পড়ে থাকতে দেখে মাধবপুর থানা ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে পিকআপের নিচে থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ফেনী: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। রোববার ভোর চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নাটোর: এছাড়া নাটোরের বড়াইগ্রামে গড়মাটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় জুলফিকার নামে এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং আগামীকালই তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিজের বিয়ের আনন্দ আয়োজনের অংশ হিসেবে সকালে বোন ও দুলাভাইকে নিয়ে আসতে জুলফিকার নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে পাবনার দাশুড়িয়া থেকে নাটোরের বনপাড়ায় যাচ্ছিলেন। পথে বড়াইগ্রামের গড়মাটি এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে ট্রাকের নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জুলফিকার প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
বান্দরবান: ঢাকা থেকে বান্দরবানগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে পড়ে গেছে। এতে অন্তত ২০ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজারসহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ভেতর থেকে আমরা অনেক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। বাসটিতে থাকা অধিকাংশ পর্যটক ছোটখাটো আহত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল মান্না দে বলেন, পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা মিলে আহত পর্যটকদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনা হয়। বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ সর্বমোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন এবং যাত্রীরা বান্দরবানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গতরাতে ঢাকা থেকে রওনা হন। বাসটিতে থাকা অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন পর্যটক ছোটখাটো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।




















