ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড এখন মধ্যপ্রাচ্যে থেকে গ্রিসে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / 51

ইরান যুদ্ধের মাঝেই বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সক্ষমতা। আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। মূলত রণতরীটি মেরামতের জন্য গ্রিসে ফিরে গেছে। এতে করে ইরানে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিল বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে আগুনের ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জাহাজটি এখন মেরামতের জন্য গ্রিসে অবস্থান করছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) রণতরীটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে পৌঁছায়। এর আগে গত ১২ মার্চ রণতরীটির লন্ড্রি অংশে আগুন লাগে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের মধ্যেই লাগা ওই আগুনে রণতরীর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে জেরাল্ড আর. ফোর্ড এখন গ্রিসে থাকায় ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আপাতত একটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে, যদি না নতুন কোনও রণতরী সেখানে পাঠানো হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ শক্তিতে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপ চলছে না: ইরান

তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, রণতরীটি এখনও পুরোপুরি কার্যক্ষম। সৌদা বে-তে অবস্থানকালে জাহাজটির পরীক্ষা, মেরামত ও রসদ পুনরায় সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে এর স্ট্রাইক গ্রুপের বিদেশে মোতায়েনও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের পাশাপাশি আরেক রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এগুলোতে বহু যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে।

গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়ার নরফোক থেকে যাত্রা শুরু করার পর প্রায় ৯ মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছে রণতরীটি। প্রথমে এটি ইউরোপে পাঠানো হয়, পরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়। সেখানে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার অংশ ছিল এটি।

সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা, মাদকবাহী সন্দেহভাজন নৌযানে হামলা এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার আটকানোর মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়। এরপর ফেব্রুয়ারির শুরুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে জাহাজটিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর থেকেই জাহাজটিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। টয়লেট ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পরে লন্ড্রি অংশে আগুন লাগার ঘটনায় দুই নাবিক আহত হন এবং প্রায় ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার রণতরীটির দীর্ঘদিন ধরে টানা মোতায়েন থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজ ও ক্রুরা চাপে রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড এখন মধ্যপ্রাচ্যে থেকে গ্রিসে

আপডেট সময় : ০১:২০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের মাঝেই বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সক্ষমতা। আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। মূলত রণতরীটি মেরামতের জন্য গ্রিসে ফিরে গেছে। এতে করে ইরানে চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিল বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে আগুনের ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জাহাজটি এখন মেরামতের জন্য গ্রিসে অবস্থান করছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) রণতরীটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে পৌঁছায়। এর আগে গত ১২ মার্চ রণতরীটির লন্ড্রি অংশে আগুন লাগে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের মধ্যেই লাগা ওই আগুনে রণতরীর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে জেরাল্ড আর. ফোর্ড এখন গ্রিসে থাকায় ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আপাতত একটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে, যদি না নতুন কোনও রণতরী সেখানে পাঠানো হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ শক্তিতে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপ চলছে না: ইরান

তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, রণতরীটি এখনও পুরোপুরি কার্যক্ষম। সৌদা বে-তে অবস্থানকালে জাহাজটির পরীক্ষা, মেরামত ও রসদ পুনরায় সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে এর স্ট্রাইক গ্রুপের বিদেশে মোতায়েনও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের পাশাপাশি আরেক রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এগুলোতে বহু যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে।

গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়ার নরফোক থেকে যাত্রা শুরু করার পর প্রায় ৯ মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছে রণতরীটি। প্রথমে এটি ইউরোপে পাঠানো হয়, পরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়। সেখানে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার অংশ ছিল এটি।

সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা, মাদকবাহী সন্দেহভাজন নৌযানে হামলা এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার আটকানোর মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়। এরপর ফেব্রুয়ারির শুরুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে জাহাজটিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর থেকেই জাহাজটিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। টয়লেট ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পরে লন্ড্রি অংশে আগুন লাগার ঘটনায় দুই নাবিক আহত হন এবং প্রায় ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার রণতরীটির দীর্ঘদিন ধরে টানা মোতায়েন থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজ ও ক্রুরা চাপে রয়েছে।