ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলি আখবর পাচ্ছেন ফ্রান্সের ‘অর্ডার অফ মেরিট’

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 115

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করে আসা আলি আখবর দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অফ মেরিট’ পাচ্ছেন। এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন যিনি একসময় ছাত্রাবস্থায় আলির কাছ থেকেই পত্রিকা কিনতেন।

৭২ বছর বয়সী আলি আখবর বর্তমানে ফ্রান্সের শেষ সংবাদপত্র ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন তিনি প্যারিসের বিখ্যাত সেইন্ট জার্মান এলাকায় হাতে নিয়ে হাঁটেন লে মন্ডসহ বিভিন্ন ফরাসি দৈনিক। কাগজের শিরোনাম মুখে তুলে ধরেন পুরনো ধ্বনিতে “লে মন্ড, লে মন্ড!”

আলি জানান, ১৯৭৩ সালে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন তিনি। তখন প্যারিসে এই পেশায় ৩৫–৪০ জন ফেরিওয়ালা ছিলেন, আর এখন তিনি একাই আছেন। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে পেশাটি আর তেমন লাভজনক বা জনপ্রিয় নয়। বর্তমানে দিনে গড়ে ৩০ কপি লে মন্ড বিক্রি করতে পারেন, বিক্রির অর্ধেক অর্থই তার প্রাপ্য। তবে অবিক্রিত কপির জন্য তিনি কোনো টাকা পান না। ইন্টারনেট আসার আগে দুপুরে পত্রিকা প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই ৮০ কপি বিক্রি হয়ে যেত।

পেশার এই পতন নিয়ে আলি হতাশ নন। বরং তিনি এলাকায় সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ। অভিনেতা-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই তাকে চেনেন। এক সময় ব্রাসেরি লিপ রেস্টুরেন্টে সঙ্গীত তারকা এলটন জন তাকে চা খাইয়েছেন। আবার প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কাগজ বিক্রি করতে গিয়ে বহু ভবিষ্যৎ রাজনীতিককে চিনেছেন, যাদের একজন আজকের প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম নেওয়া আলি ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ইউরোপে আসেন। প্রথমে আমস্টারডামে একটি ক্রুজ শিপে কাজ পান। ১৯৭২ সালে সেই জাহাজ ফ্রান্সের রুয়াঁ শহরে আসে, আর এক বছর পর তিনি প্যারিসে চলে আসেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ফরাসি রেসিডেন্স পারমিট পান।

শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনের হাত থেকে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ ‘অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মাননা গ্রহণ করবেন। সূত্র: বিবিসি নিউজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আলি আখবর পাচ্ছেন ফ্রান্সের ‘অর্ডার অফ মেরিট’

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করে আসা আলি আখবর দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অফ মেরিট’ পাচ্ছেন। এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন যিনি একসময় ছাত্রাবস্থায় আলির কাছ থেকেই পত্রিকা কিনতেন।

৭২ বছর বয়সী আলি আখবর বর্তমানে ফ্রান্সের শেষ সংবাদপত্র ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন তিনি প্যারিসের বিখ্যাত সেইন্ট জার্মান এলাকায় হাতে নিয়ে হাঁটেন লে মন্ডসহ বিভিন্ন ফরাসি দৈনিক। কাগজের শিরোনাম মুখে তুলে ধরেন পুরনো ধ্বনিতে “লে মন্ড, লে মন্ড!”

আলি জানান, ১৯৭৩ সালে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন তিনি। তখন প্যারিসে এই পেশায় ৩৫–৪০ জন ফেরিওয়ালা ছিলেন, আর এখন তিনি একাই আছেন। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে পেশাটি আর তেমন লাভজনক বা জনপ্রিয় নয়। বর্তমানে দিনে গড়ে ৩০ কপি লে মন্ড বিক্রি করতে পারেন, বিক্রির অর্ধেক অর্থই তার প্রাপ্য। তবে অবিক্রিত কপির জন্য তিনি কোনো টাকা পান না। ইন্টারনেট আসার আগে দুপুরে পত্রিকা প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই ৮০ কপি বিক্রি হয়ে যেত।

পেশার এই পতন নিয়ে আলি হতাশ নন। বরং তিনি এলাকায় সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ। অভিনেতা-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই তাকে চেনেন। এক সময় ব্রাসেরি লিপ রেস্টুরেন্টে সঙ্গীত তারকা এলটন জন তাকে চা খাইয়েছেন। আবার প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কাগজ বিক্রি করতে গিয়ে বহু ভবিষ্যৎ রাজনীতিককে চিনেছেন, যাদের একজন আজকের প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম নেওয়া আলি ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ইউরোপে আসেন। প্রথমে আমস্টারডামে একটি ক্রুজ শিপে কাজ পান। ১৯৭২ সালে সেই জাহাজ ফ্রান্সের রুয়াঁ শহরে আসে, আর এক বছর পর তিনি প্যারিসে চলে আসেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ফরাসি রেসিডেন্স পারমিট পান।

শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনের হাত থেকে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ ‘অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মাননা গ্রহণ করবেন। সূত্র: বিবিসি নিউজ।