ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 88
106

অস্ত্রের ছড়াছড়ি, সঙ্গে গুজব আর মব ভায়োলেন্স। টার্গেট কিলিংয়ের হুমকি তো আছেই। এর মধ্যেই নিরাপত্তা বিবেচনায় ৪৩ জনের জীবনের ঝুঁকির তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, জুলাইযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের নাম রয়েছে। কী করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? নিরাপত্তা ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে?

জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কা জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। চেয়েছিলেন রাজপথের মৃত্যু। হয়েছেও তাই।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু খুনি এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

অথচ এ হত্যাকাণ্ডকে ব্যবহার করে গুজব পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে দুটি পত্রিকার অফিস। সেখানেও দাঁড়িয়ে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কেন?

এবার আরেকটি ঘটনার দিকে চোখ রাখা যাক। ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে গাছের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে সনাতনী ধর্মের এক যুবককে। এখানেও চুপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য পরে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

মৌসুমী সবজির দাম কমলেও নাগালের বাইরে টমেটো-শসা

এত গেলো ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা। এখনও টার্গেট কিলিংয়ের হুমকি রয়েছে শতাধিক ব্যক্তির উপর। যাদের মধ্যে ৪৩ জনকে উচ্চ ঝুঁকিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের দেয়া হচ্ছে গানম্যান।

যেখানে গানসহ দাঁড়িয়ে এসব ঘটনা দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারবে গানম্যানরা প্রশ্ন ছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কাউকে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা না দিয়ে গোটা দেশকে কীভাবে নিরাপদ করা যায়, নির্বাচনের কীভাবে একটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা যায়, সরকারকে সে পথে হাঁটতে হবে।’

যদিও ডিএমপি বলছে, তিন ধাপে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তারা। সঙ্গে মাঠে থাকবে গোয়েন্দা বাহিনী।

ডিএমপির উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘প্রথমত নির্বাচন পূর্ববর্তী, দ্বিতীয়ত নির্বাচনের দিন এবং তৃতীয়ত নির্বাচন পরবর্তী সময়গুলো আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে সার্বিকভাবে একটা সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ তৈরি করা, সে ব্যাপার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।’

সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে এ সংকট বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা চাই যে ঘটনা ঘটার পর যেহেতু আমাদের এখানে আয়োজনগুলো শুরু হয়। সে আয়োজনগুলো যে কুব দ্রুততার সঙ্গে শুরু হয়। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনা, অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিবেচনা না করে যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ করা। এ জায়গাতেও আসলে আমরা ভালো কোনো দৃষ্টান্ত দৃশ্যমান করাতে পারছি না।’

নির্বাচনমুখী বাংলাদেশের এ সমস্যা সমাধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট সময় : ১২:৫০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
106

অস্ত্রের ছড়াছড়ি, সঙ্গে গুজব আর মব ভায়োলেন্স। টার্গেট কিলিংয়ের হুমকি তো আছেই। এর মধ্যেই নিরাপত্তা বিবেচনায় ৪৩ জনের জীবনের ঝুঁকির তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, জুলাইযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের নাম রয়েছে। কী করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? নিরাপত্তা ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে?

জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কা জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। চেয়েছিলেন রাজপথের মৃত্যু। হয়েছেও তাই।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু খুনি এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

অথচ এ হত্যাকাণ্ডকে ব্যবহার করে গুজব পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে দুটি পত্রিকার অফিস। সেখানেও দাঁড়িয়ে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কেন?

এবার আরেকটি ঘটনার দিকে চোখ রাখা যাক। ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে গাছের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে সনাতনী ধর্মের এক যুবককে। এখানেও চুপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য পরে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

মৌসুমী সবজির দাম কমলেও নাগালের বাইরে টমেটো-শসা

এত গেলো ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা। এখনও টার্গেট কিলিংয়ের হুমকি রয়েছে শতাধিক ব্যক্তির উপর। যাদের মধ্যে ৪৩ জনকে উচ্চ ঝুঁকিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের দেয়া হচ্ছে গানম্যান।

যেখানে গানসহ দাঁড়িয়ে এসব ঘটনা দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারবে গানম্যানরা প্রশ্ন ছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কাউকে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা না দিয়ে গোটা দেশকে কীভাবে নিরাপদ করা যায়, নির্বাচনের কীভাবে একটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা যায়, সরকারকে সে পথে হাঁটতে হবে।’

যদিও ডিএমপি বলছে, তিন ধাপে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তারা। সঙ্গে মাঠে থাকবে গোয়েন্দা বাহিনী।

ডিএমপির উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘প্রথমত নির্বাচন পূর্ববর্তী, দ্বিতীয়ত নির্বাচনের দিন এবং তৃতীয়ত নির্বাচন পরবর্তী সময়গুলো আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে সার্বিকভাবে একটা সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ তৈরি করা, সে ব্যাপার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।’

সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে এ সংকট বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা চাই যে ঘটনা ঘটার পর যেহেতু আমাদের এখানে আয়োজনগুলো শুরু হয়। সে আয়োজনগুলো যে কুব দ্রুততার সঙ্গে শুরু হয়। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনা, অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিবেচনা না করে যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ করা। এ জায়গাতেও আসলে আমরা ভালো কোনো দৃষ্টান্ত দৃশ্যমান করাতে পারছি না।’

নির্বাচনমুখী বাংলাদেশের এ সমস্যা সমাধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।