ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে ধর্মীয় রাজনীতি: প্রতারণা বনাম বাস্তবতা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 96
113

নির্বাচন এলেই ভোট টানতে ধর্মীয় বক্তব্য ও পোশাকি পরিবর্তনকে পুঁজি করেন অনেক প্রার্থী। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনীতি নিয়ে নানামুখী প্রতিশ্রুতি থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে ধর্মের আবহ। তখন ধর্মই যেন হয়ে ওঠে ভোটের হিসাব মেলানোর সবচেয়ে সহজ আশ্রয়। শুধু ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেও ধর্মীয় শব্দের ব্যবহার। কখনও ‘মুনাফেকি’ কখনও ‘শিরকি’, কখনও বা ‘মুফতি’ বলে চলে রাজনৈতিক আক্রমণ।

শুধু তাই নয়, নির্বাচন এলেই রাজনীতির অঙ্গনে শুরু হয় ধার্মিকতা প্রদর্শনের হুড়োহুড়ি। সারা বছর মাথায় টুপি উঠুক বা না উঠুক, ভোটের মাঠে নামতেই তাদের মাথায় টুপি স্থায়ী হয়। পোশাক বদলায়, বক্তব্যে ঢুকে পড়ে ধর্মীয় উক্তি ধর্মীয় বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, ভোটের মাঠে প্রার্থীরা যেন হয়ে ওঠেন সাচ্চা ধার্মিক। রাজনীতির এ সংস্কৃতি দেশে নতুন নয়, বেশ পুরোনো।

ধর্মনিরপেক্ষার বুলি আওড়ানো আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ থেকেই নির্বাচনি পোস্টারের উপরে ‘আল্লাহু আকবার’; বা ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’ শব্দ ব্যবহার করে। স্লোগান দেয়—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ।’ দলীয় প্রধানের মাথায় ওঠে পট্টি, হাতে তসবিহ নিয়ে ঘোষণা দেন মদিনা সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র চালানোর।

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি কোনো লুকোচুরি করেনি: তারেক রহমান

বিশ্ব যখন তথ্যপ্রযুক্তি আর উদ্ভাবনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের ভোটের মাঠে ধর্মই যেন হয়ে উঠেছে মুখ্য ইস্যু। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে ঘুরেফিরে আসে ধর্ম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘যারা লিবারেল রাজনীতি প্র্যাকটিস করেন তারাও কিন্তু বলেন আমরা ‘‘শরীয়াহ আইন’’ রাখবো, তারাও ‘‘টুপি’’ পরে ও ‘‘তসবিহ’’ হাতে নেয়। এভাবে তারা ধর্মটাকে ব্যবহার করে। ‘‘টুপি’’ বাজার এখন রমরমা।’

তবে রাষ্ট্রচিন্তক কবি ফরহাদ মজহার ধর্মের এই ব্যবহারকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক মনে করেন না। তার মতে, দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাই যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন প্রার্থীরা ভোট আদায়ে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পান।

রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রগঠনে বা জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্তে ধর্মের প্রভাব তো থাকবেই। যারা করছে তাদেরকে কেন আমি দোষারোপ করবো কেন? আপনি যে নিয়ম তৈরি করেছে সে নিয়মের মধ্যে তারা খেলছে। আপনি নিয়মটা বদলান না।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিতে অগ্রগতির বিষয়গুলোই ভোটের মাঠে প্রধান আলোচ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের মাঠে প্রধান আলোচ্য প্রথমটা হওয়া উচিত দুর্নীতি দমন এবং দ্বিতীয় হওয়া উচিত নিরাপত্তা কারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন আর সুশাসনের প্রশ্নের বদলে ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহারই রাজনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনে ধর্মীয় রাজনীতি: প্রতারণা বনাম বাস্তবতা

আপডেট সময় : ১২:০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
113

নির্বাচন এলেই ভোট টানতে ধর্মীয় বক্তব্য ও পোশাকি পরিবর্তনকে পুঁজি করেন অনেক প্রার্থী। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনীতি নিয়ে নানামুখী প্রতিশ্রুতি থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে ধর্মের আবহ। তখন ধর্মই যেন হয়ে ওঠে ভোটের হিসাব মেলানোর সবচেয়ে সহজ আশ্রয়। শুধু ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেও ধর্মীয় শব্দের ব্যবহার। কখনও ‘মুনাফেকি’ কখনও ‘শিরকি’, কখনও বা ‘মুফতি’ বলে চলে রাজনৈতিক আক্রমণ।

শুধু তাই নয়, নির্বাচন এলেই রাজনীতির অঙ্গনে শুরু হয় ধার্মিকতা প্রদর্শনের হুড়োহুড়ি। সারা বছর মাথায় টুপি উঠুক বা না উঠুক, ভোটের মাঠে নামতেই তাদের মাথায় টুপি স্থায়ী হয়। পোশাক বদলায়, বক্তব্যে ঢুকে পড়ে ধর্মীয় উক্তি ধর্মীয় বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, ভোটের মাঠে প্রার্থীরা যেন হয়ে ওঠেন সাচ্চা ধার্মিক। রাজনীতির এ সংস্কৃতি দেশে নতুন নয়, বেশ পুরোনো।

ধর্মনিরপেক্ষার বুলি আওড়ানো আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ থেকেই নির্বাচনি পোস্টারের উপরে ‘আল্লাহু আকবার’; বা ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’ শব্দ ব্যবহার করে। স্লোগান দেয়—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ।’ দলীয় প্রধানের মাথায় ওঠে পট্টি, হাতে তসবিহ নিয়ে ঘোষণা দেন মদিনা সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র চালানোর।

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি কোনো লুকোচুরি করেনি: তারেক রহমান

বিশ্ব যখন তথ্যপ্রযুক্তি আর উদ্ভাবনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের ভোটের মাঠে ধর্মই যেন হয়ে উঠেছে মুখ্য ইস্যু। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে ঘুরেফিরে আসে ধর্ম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘যারা লিবারেল রাজনীতি প্র্যাকটিস করেন তারাও কিন্তু বলেন আমরা ‘‘শরীয়াহ আইন’’ রাখবো, তারাও ‘‘টুপি’’ পরে ও ‘‘তসবিহ’’ হাতে নেয়। এভাবে তারা ধর্মটাকে ব্যবহার করে। ‘‘টুপি’’ বাজার এখন রমরমা।’

তবে রাষ্ট্রচিন্তক কবি ফরহাদ মজহার ধর্মের এই ব্যবহারকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক মনে করেন না। তার মতে, দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাই যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন প্রার্থীরা ভোট আদায়ে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পান।

রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রগঠনে বা জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্তে ধর্মের প্রভাব তো থাকবেই। যারা করছে তাদেরকে কেন আমি দোষারোপ করবো কেন? আপনি যে নিয়ম তৈরি করেছে সে নিয়মের মধ্যে তারা খেলছে। আপনি নিয়মটা বদলান না।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিতে অগ্রগতির বিষয়গুলোই ভোটের মাঠে প্রধান আলোচ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের মাঠে প্রধান আলোচ্য প্রথমটা হওয়া উচিত দুর্নীতি দমন এবং দ্বিতীয় হওয়া উচিত নিরাপত্তা কারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন আর সুশাসনের প্রশ্নের বদলে ভোটের স্বার্থে ধর্মের ব্যবহারই রাজনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠছে।