মার্করামের ‘সুপার সাইক্লোনে’ সুপার এইটে এক পা প্রোটিয়াদের

- আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 289
আহমেদাবাদে নরেন্দ্রো মোদি স্টেডিয়ামে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর রীতিমতো টনের্ডো বইয়ে দিলেন এইডেন মার্করাম। নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের তুলোধুনো করে দলকে এনে দিলেন সহজ এক জয়। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ম সংস্করণে সুপার এইটে এক পা দিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপপর্বের প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেল তারা প্রোটিয়ারা।
লক্ষ্যটা আহামরি বড় ছিল না। তবে বড় ব্যবধানে জয়ের হিসেব কষে রেখেছিলেন কি না মার্করাম কে জানে! প্রথম ওভার থেকেই তাণ্ডব শুরু হয় এই ওপেনারের। শেষ পর্যন্ত এই ব্যাটারকে আউটই করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ডের বোলাররা। ৪৪ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। আর দক্ষিণ আফ্রিকা পেল সাত উইকেটের জয়।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
গ্রুপ ‘ডি’ তে তিন ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর সমান ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নিউ জিল্যান্ড। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে জয় পেলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে কিউদেরও। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে হারলেও পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের। ১.৪৭৭ নেট রান রেট নিয়ে বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছে তারা।
রান তাড়ায় মাত্র তিন ওভারেই পঞ্চাশ স্পর্শ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরমধ্যে ৪১ রানই আসে মার্করামের ব্যাট থেকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি এটি। প্রথম পঞ্চাশ রান তুলতে এর চেয়ে কম বলের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের। ২০১৬ বিশ্বকাপে এই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে রেকর্ডটি করে ইংলিশরা।
ওমানকে হারিয়ে আসরে আয়ারল্যান্ডের প্রথম জয়
৪.৪ ওভারে দলীয় ৬২ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ বলে ২০ করা কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করেন লকি ফার্গুসন। তবে ঝড় থামেনি মার্করামের। ১৯ বলে সমান ৬ চার ও চার ছয়ে করেন ফিফটি। টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি এটি। দ্রুততম রেকর্ডের মালিক অভিষেক শর্মা এ বছরই কিউইদের বিপক্ষে ১৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।
৭.২ ওভারেই ১০০ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১ বলে ২১ করা রিকেলটন জেমস নিশামের শিকার হলে শেষ হয় দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ১৮ বলে ৪০ রানের জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার রান যখন ১৩১, সমান ২১ রান করে আউট হন ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও। তারপর ডেভিড মিলারকে নিয়ে জয়ের জন্য হেসেখেলেই বাকি কাজটুকু সারেন মার্করাম। মিলার করেন ১৭ বলে ২৪ রান। শেষ বলে ফার্গুসনকে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও দ্রুত গতিতে রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। টপ অর্ডারের প্রথম তিন ব্যাটারকেই ফেরান মার্কো ইয়ানসেন। দারুণ শুরু পেয়েও উইকেটে থিতু হতে না পারা টিম সাইফোর্ট ৯ বলে ১৩, ফিন অ্যালেন ১৭ বলে ৩১ ও রাচিন রবিন্দ্রো ৮ বলে ১৩ করে আউট হন। পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের স্কোর দাঁড়ায় ৫৮/৩।
সপ্তম ওভারে গ্লে ফিলিপসের উইকেটও হারায় নিউ জিল্যান্ড। এরপরই মার্ক চ্যাপম্যান ও ডেরি মিচেলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। এই জুটির আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে দুইশো রানের দিকে ছুটছিল নিউ জিল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে ৪৪ বলে ৭৪ রান যোগ করেন মিচেল-চ্যাপম্যান।
তবে আরেকবার প্রোটিয়াদের ম্যাচে ফেরান ইয়ানসেন। চ্যাপম্যানকে রায়ান রিকেলটনের ক্যাচ বানিয়ে বিপদজনক জুটি ভাঙেন এই পেসার। ৬ চার ও দুই ছক্কায় ২৬ বলে ৪৮ করে করেন চ্যাপম্যান। এই জুটি ভাঙার পর রানের গতিও থমকে যায় নিউ জিল্যান্ডের। শেষ ৬ ওভারে মাত্র ৩৮ রান করে তারা। ২৪ বলে ৩২ করেন মিচেল। আটে নামা জেমস নিশামের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৩।
৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার ইয়ানসেন। এছাড়া একটি করে শিকার করেছেন লুঙ্গি এনগিডি, কেশব মহারাজ ও করবিন বচ।


























