ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে নগরবাসী, রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 43

হুইসেল বাজিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন, কামরার ভেতরে বসে বাড়ি ফেরার স্বপ্নে যেন বিভোর থাকে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই। কেননা এই দিনটির জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকেন সবাই। নিজ আঙ্গিনায় চেনা মানুষদের সঙ্গে ঈদের মুহূর্তগুলো রঙিন করার প্রত্যাশা তাদের। সন্তানের আনন্দে নিজেদের আনন্দ খুঁজে পান বাবা-মা। ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে ছুটে যান অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় করছেন বাড়ি ফেরা মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গতকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। ঝামেলা এড়াতে পরিবারের নারী ও বয়স্করা আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো

কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় নেই। নেই যাত্রীচাপও।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেক যাত্রীই জানিয়েছেন, হাতে সময় থাকায় ঈদের ঠিক আগের ভিড় ও সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতেই তারা আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে বিশেষ প্রস্তুতি

গতকাল ১৩ মার্চ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ট্রেনযাত্রার দ্বিতীয় দিন। বিশেষ ব্যবস্থায় স্টেশনের প্রবেশপথে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট থাকলে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই, তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টিকিটবিহীন যাত্রী এড়াতে প্ল্যাটফর্মের বাইরে বাঁশের বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানিয়েছেন, যারা টিকিট ছাড়া প্রবেশ করতে চান, তাদের কোনোভাবেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যদি তিনটি টিকিট কেটে থাকেন কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কোনোভাবেই বিনা টিকিটে কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে। এজন্য প্রবেশের সময় দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার বিভিন্ন গন্তব্যে ৪০টি ট্রেন যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। ১৬ তারিখ থেকে চলবে বিশেষ ট্রেন।’

ঈদের ট্রেন যাত্রার দ্বিতীয় দিনে এসে কয়েকটি ট্রেন ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। যদিও শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এই ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেনের মোট আসন রয়েছে ২৮ হাজার ৯২৬টি। এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৩টি ট্রেনের ১৬ হাজার ১৯৪টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি ট্রেনের ১২ হাজার ৭৩২টি আসন গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে নগরবাসী, রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়

আপডেট সময় : ১১:৫৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

হুইসেল বাজিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন, কামরার ভেতরে বসে বাড়ি ফেরার স্বপ্নে যেন বিভোর থাকে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই। কেননা এই দিনটির জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকেন সবাই। নিজ আঙ্গিনায় চেনা মানুষদের সঙ্গে ঈদের মুহূর্তগুলো রঙিন করার প্রত্যাশা তাদের। সন্তানের আনন্দে নিজেদের আনন্দ খুঁজে পান বাবা-মা। ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে ছুটে যান অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় করছেন বাড়ি ফেরা মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গতকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। ঝামেলা এড়াতে পরিবারের নারী ও বয়স্করা আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো

কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় নেই। নেই যাত্রীচাপও।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেক যাত্রীই জানিয়েছেন, হাতে সময় থাকায় ঈদের ঠিক আগের ভিড় ও সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতেই তারা আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে বিশেষ প্রস্তুতি

গতকাল ১৩ মার্চ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ট্রেনযাত্রার দ্বিতীয় দিন। বিশেষ ব্যবস্থায় স্টেশনের প্রবেশপথে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট থাকলে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই, তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টিকিটবিহীন যাত্রী এড়াতে প্ল্যাটফর্মের বাইরে বাঁশের বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানিয়েছেন, যারা টিকিট ছাড়া প্রবেশ করতে চান, তাদের কোনোভাবেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যদি তিনটি টিকিট কেটে থাকেন কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কোনোভাবেই বিনা টিকিটে কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে। এজন্য প্রবেশের সময় দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার বিভিন্ন গন্তব্যে ৪০টি ট্রেন যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। ১৬ তারিখ থেকে চলবে বিশেষ ট্রেন।’

ঈদের ট্রেন যাত্রার দ্বিতীয় দিনে এসে কয়েকটি ট্রেন ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। যদিও শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এই ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেনের মোট আসন রয়েছে ২৮ হাজার ৯২৬টি। এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৩টি ট্রেনের ১৬ হাজার ১৯৪টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি ট্রেনের ১২ হাজার ৭৩২টি আসন গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।