ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করল ইন্দোনেশিয়া

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 78

সাইবার বুলিং ও ইন্টারনেট আসক্তি রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে—যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম এমন উদ্যোগ।

সরকারের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রায় সাত কোটি অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। তাদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাইবার বুলিং, পর্নোগ্রাফি, অনলাইন প্রতারণা এবং স্ক্রিন আসক্তির মতো ঝুঁকি মোকাবিলাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

নতুন নীতিমালায় বেশ কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার), বিগো লাইভ ও রোবলক্স ও থ্রেডস।

আইন অনুযায়ী, এসব প্ল্যাটফর্মকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে এবং নতুন করে প্রবেশাধিকার রোধ করতে হবে। দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউত্যা হাফিদ জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

অর্ধশতাব্দী পর চাঁদে যাচ্ছেন নারী ও কৃষাঙ্গসহ ৪ নভোচারী

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে কাজ শুরু করেছে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞা চালু করে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

জাতিসংঘ-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রায় অর্ধেক শিশু অনলাইনে বুলিং বা যৌন হয়রানির শিকার হয়।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বললেও সমালোচকদের মতে, এটি জটিল সমস্যার সহজ সমাধান মাত্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখার নির্বাহী পরিচালক উসমান হামিদ বলেন, শিশুদের ডিজিটাল জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং সেটিকে আরও নিরাপদ করা উচিত।

অভিভাবকদের একাংশও মনে করছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়—পরিবার থেকেই সচেতনতা ও সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করল ইন্দোনেশিয়া

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সাইবার বুলিং ও ইন্টারনেট আসক্তি রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে—যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম এমন উদ্যোগ।

সরকারের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রায় সাত কোটি অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। তাদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাইবার বুলিং, পর্নোগ্রাফি, অনলাইন প্রতারণা এবং স্ক্রিন আসক্তির মতো ঝুঁকি মোকাবিলাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

নতুন নীতিমালায় বেশ কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার), বিগো লাইভ ও রোবলক্স ও থ্রেডস।

আইন অনুযায়ী, এসব প্ল্যাটফর্মকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে এবং নতুন করে প্রবেশাধিকার রোধ করতে হবে। দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউত্যা হাফিদ জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

অর্ধশতাব্দী পর চাঁদে যাচ্ছেন নারী ও কৃষাঙ্গসহ ৪ নভোচারী

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে কাজ শুরু করেছে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞা চালু করে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

জাতিসংঘ-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রায় অর্ধেক শিশু অনলাইনে বুলিং বা যৌন হয়রানির শিকার হয়।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বললেও সমালোচকদের মতে, এটি জটিল সমস্যার সহজ সমাধান মাত্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখার নির্বাহী পরিচালক উসমান হামিদ বলেন, শিশুদের ডিজিটাল জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং সেটিকে আরও নিরাপদ করা উচিত।

অভিভাবকদের একাংশও মনে করছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়—পরিবার থেকেই সচেতনতা ও সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।