ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না, ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা আজই: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথেই এগোতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’। একই সঙ্গে তিনি জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি, বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি থাকলেও সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বিবেচনা করে তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, স্থানীয় সময় রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তারা হামলার ব্যাপ্তি সম্পর্কে জানত, কারণ তারা দেখছিল কীভাবে এর প্রস্তুতি এগোচ্ছিল। আমরা এখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ সমঝোতার মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। এর আগে বহুবারই ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের দ্রুত অবসান হতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত… আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোও তাকে সপ্তাহান্তে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না করতে বলেছে, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে, আর পারমাণবিক ইস্যুতেও চুক্তি হবে।’

ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে আসে।

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা চলছে। এর প্রধান কারণ, ব্যবসায়ীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা করছেন। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে বলেনি। ট্রাম্পের এ দাবি ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ ছাড়া কিছু নয়।

এর আগে রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে’। ইরানের গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সোমবারের আলোচনায় কোথায় বৈঠক হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাননি ট্রাম্প।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতো। এমন হামলা কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্তির সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিতে পারত। তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে, এমনকি তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না, ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা আজই: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথেই এগোতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’। একই সঙ্গে তিনি জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি, বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি থাকলেও সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বিবেচনা করে তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, স্থানীয় সময় রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তারা হামলার ব্যাপ্তি সম্পর্কে জানত, কারণ তারা দেখছিল কীভাবে এর প্রস্তুতি এগোচ্ছিল। আমরা এখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ সমঝোতার মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। এর আগে বহুবারই ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের দ্রুত অবসান হতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত… আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোও তাকে সপ্তাহান্তে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না করতে বলেছে, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে, আর পারমাণবিক ইস্যুতেও চুক্তি হবে।’

ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে আসে।

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা চলছে। এর প্রধান কারণ, ব্যবসায়ীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা করছেন। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে বলেনি। ট্রাম্পের এ দাবি ‘নতুন আরেকটি মিথ্যা’ ছাড়া কিছু নয়।

এর আগে রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে’। ইরানের গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সোমবারের আলোচনায় কোথায় বৈঠক হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাননি ট্রাম্প।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতো। এমন হামলা কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্তির সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিতে পারত। তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে, এমনকি তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।’