শনিবার গ্যাস সরবরাহ বাড়বে: পেট্রোবাংলা
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 3
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের বিপর্যয় কাটিয়ে শনিবার গ্যাসের সরবরাহ অনেকটা বাড়বে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। সরবরাহ ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নামলে শনিবার দুপুর নাগাদ ২৪০০ মিলিয়নে উন্নীত হবে বলে জানা গেছে।
গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর থেকেই গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিকল এফএসআরইউ ৬ আগস্ট আংশিক সরবরাহ শুরু করলে কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অপর এফএসআরইউ থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও জটিলতর পড়ে।
সামিটের এফএসআরইউ বন্ধের বিষয়ে সাগর উত্তালের কথা বলা হলেও দৃশ্যমান বলছে ভিন্ন কথা। সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজিবাহী কার্গোটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট। তাই এটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।
আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এগুলো হলো-মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল এবং দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপের সামিট এলএনজি টার্মিনাল। দুটিই আবার পরিচালনা করে এক্সিলারেট।
সাধারণত দুই ধরনের কার্গোতে এই এলএনজি পরিবহন করা হয়- একটি মস টাইপ, অন্যটি মেমব্রেইন টাইপ। গত মাসের শেষে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার দরপত্র দিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কোনো উপায় না দেখে জি-টু-জির ভিত্তিতে তড়িঘড়ি করে সৌদি কোম্পানি আরামকো থেকে মস টাইপ কার্গো জাহাজে করে এলএনজি আমদানি করা হয়।
১১ আগস্ট মধ্যরাতে আল হামরা নামে এই কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। বলা হয়, তখন সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের গতি ১৫ থেকে ২০ মিটার থাকলে কার্গোগুলো টার্মিনালের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হয়ে যায়। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, এখন মাতারবাড়ীতে বাতাসের যে গতি তাতে অন্য জাহাজ সহজে টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। কিন্তু আরামকোর আল হামরা কার্গো সংযুক্ত করতে সবুজ সংকেত দিচ্ছে না এক্সিলারেট।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকার এখনো এক্সিলারেটকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। যে কারণে এলএনজি সরবরাহ ৩০০ মিলিয়েন নেমে আসে (দুটি এফএসআরইউ এর সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট)।
পেট্রোবাংলা পরিচালক ((পিএসসি) প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিটল এশিয়ার একটি কার্গো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। সেটি সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হবে। তখন গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে। আমরা আশা করছি, শনিবার নাগাদ দুটি এফএসআরইউ দিয়ে সরবরাহ আসবে।
আমদানি যখন নানা গ্যাঁড়াকলে আটকা তখন দেশীয় উৎপাদনও প্রতিদিন কমছে। পেট্রোবাংলার উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী, ২১ জুলাই দেশীয় ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছিল ১৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, ১২ আগস্ট ১৬৩৬ মিলিয়নে নেমে এসেছে। প্রতিদিনই কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন, অন্যদিকে বাড়ছে চাহিদা। বাড়ন্ত চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে কয়েক বছর ধরেই হিমশিম খাচ্ছে পেট্রোবাংলা। এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২৩ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন।
বেশি উদ্বেগের বিষয় বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়া। ফিল্ডটি থেকে এখনও সাড়ে ৪৫ শতাংশের মতো গ্যাস যোগান আসছে। আর কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এক সময়ে ১৩৫০ মিলিয়নের মতো উৎপাদন দিতো, ১২ আগস্ট ৭৪২ মিলিয়নে নেমে গেছে। মজুত কমে আসায় দ্রুতই কমে যাচ্ছে উৎপাদন। শঙ্কার হচ্ছে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের ধসের শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ১ জুলাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিল্ডটি থেকে প্রায় ৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। তখন অবশিষ্ট মজুত উল্লেখ করা হয় ১.৬৬ টিসিএফ। এরপর আরও ২ বছর ২ মাস অতিবাহিত হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক কমবেশি ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। আর চাহিদা বলা হয় ৪০০০ মিলিয়নের মতো। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি নতুন শিল্পে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রস্তাবে উল্লেখ করে পাইপলাইনে সংযুক্ত গ্রাহকের দৈনিক চাহিদা ৫৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ৬ মাস পর (আগস্ট) সার উৎপাদনে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের সময় চাহিদা উল্লেখ করা হয় ৫১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই হিসাবের বাইরে রয়েছে বড় অংকের প্রতিশ্রুত ও অপেক্ষমাণ গ্রাহক।
এক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৩৭৯টি শিল্পের বিপরীতে প্রতিশ্রুত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। যারা কোটি কোটি টাকা জামানত দিয়ে জুতার তলা ক্ষয় করছেন। সেই প্রতিশ্রুত গ্রাহকের সংখ্যাও সারা দেশে কম নয়। এতে গোড়াতেই গলদ থেকে যাচ্ছে, আর গলদ রেখে সংকট নিরসন করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

























সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু