ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ১০:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় পাকিস্তান। ব্যাটিং ব্যর্থতার ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও যাচ্ছেতাই ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখায় তারা। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানেই হারতে হলো সালমান আলী আগাদের। আড়াই দিনেই পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ২০১৮ সালে লিডসে ইনিংস ও ৫৫ রানের ব্যবধানে হারের পর, এবারও একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের টেস্ট শেষ হলো ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে।
প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রান করলে ইনিংস হার এড়াতেই ২৩৮ রান করতে হতো পাকিস্তানকে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭.৩ ওভার ব্যাট করেই ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
টেস্টে এই শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের মাঠে এটি পাকিস্তানের ষষ্ঠ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ২০১০ সালে বার্মিংহামে ৭২ রান সর্বোনিম্ন। এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ইংলিশদের ষষ্ঠ বৃহত্তম জয়। ২০১০ সালে লর্ডসে ইনিংস ও ২২৫ রানের জয় এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পাওয়া জয়।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড আরও ৪৩ রান যোগ করে ৪০৯ রানে অলআউট হয় এবং ২৩৮ রানের বিশাল প্রথম ইনিংসের লিড পায়। এরপর ইংলিশ পেস আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। যেখানে দলের পক্ষে মোহাম্মদ রিজওয়ান সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন।
ইংল্যান্ডের পেসাররা ছিলেন দুর্দান্ত। জশ টাং ও ওলি রবিনসন ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। এই টেস্টে তাদের ম্যাচ ফিগার যথাক্রমে ৮-৮৯ এবং ৮-৮০—যা দুজনেরই টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স।
পুরো ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের বেহাল দশা স্পষ্ট ছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেও স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জফ্রা আর্চারের বলে উইকেটকিপার জেমি স্মিথকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমাম-উল-হক। এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একপেশেভাবে হার মানতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
জফ্রা আর্চারের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই লেগ স্লিপে জো রুটের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন আজান আওয়াজ। এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে রুটের ২১৯তম ক্যাচ, এরমধ্য দিয়ে উইকেটকিপার ছাড়া সর্বকালের সেরা ক্যাচ ধরার তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথকে ছাড়িয়ে আবারও শীর্ষে উঠে আসেন।
পাকিস্তানের জন্য চলতি মাসের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ড্র করা সিরিজটি যেন কেবলই একটি মিথ্যে আশার আলো ছিল। দুই দলের পেস আক্রমণের ধার, ইংলিশ কন্ডিশনে দুই ব্যাটিং লাইনআপের সাবলীলতা এবং ফিল্ডিংয়ে তাদের ক্ষিপ্রতা—সব মিলিয়ে দুই দলের ব্যবধান ছিল স্পষ্ট ও আকাশসম।
তিন ম্যাচের এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু হবে, যেখানে আঙুলের চোট কাটিয়ে অধিনায়ক বাবর আজমকে দলে ফিরে পাওয়ার আশা করছে পাকিস্তান।

























প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন হুমায়ুন কবির-শামীম কায়সার