পারেদেস-মোলিনার বড় শাস্তি, রেহাই পায়নি আর্জেন্টিনাও
- আপডেট সময় : ১০:২৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 3
ফিফা বিশ্বকাপের সবশেষ ফাইনাল শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার হতাশায়! কিন্তু শেষ বাঁশির সঙ্গে শেষ হয়নি ম্যাচের উত্তাপ। স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হারের পর নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে দুই দলের খেলোয়াড় ও ব্যাকরুম স্টাফদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এবার বড় শাস্তি পেল আর্জেন্টিনা।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনাকে যথাক্রমে ১০ ও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। ফলে জাতীয় দলের হয়ে পরবর্তী বেশ কয়েকটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে এই দুই ফুটবলারকে।
ফাইনালের শেষ বাঁশির পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দুই দলের ব্যাকরুম স্টাফদের মধ্যেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাঠের ভেতরের উত্তেজনা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে খেলোয়াড়দের আচরণে, যা শেষ পর্যন্ত ফিফার ডিসিপ্লিনারি তদন্ত পর্যন্ত গড়ায়।
ঘটনাটিকে হালকাভাবে নেয়নি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তদন্তের জন্য গত মাসে একজন ডিসিপ্লিনারি ও এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করে ফিফা। তদন্ত শেষে এবার পারেদেস ও মোলিনার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এসেছে।
তবে শাস্তির পরিধি শুধু দুই ফুটবলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দলীয় আচরণ ও সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের দায়ে আর্জেন্টিনাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। নিজেদের পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ ৫০ শতাংশ দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার একটি ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগে এই জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে খেলাধুলার আয়োজনকে খেলাধুলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার, দলের অসদাচরণ এবং সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গির বিষয়গুলোও রয়েছে।
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য ফাইনালের পর থেকেই শুরু হয়নি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পরও আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে তারা এমন একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি তুলে ধরা হয়েছিল।
সেমিফাইনালের সেই বিতর্কের পর ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ম্যাচের ফল নিয়ে হতাশা, মাঠের উত্তেজনা এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ফিফা আলাদা তদন্ত শুরু করে।
সেই তদন্তের ফলেই এবার কঠোর বার্তা দিল ফিফা। পারেদেসের ১০ ম্যাচ এবং মোলিনার ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তিই নয়, জাতীয় দলের হয়ে ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও এর প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে অর্ধেক দর্শক নিয়ে হোম ম্যাচ আয়োজনের বাধ্যবাধকতা এবং বড় অঙ্কের জরিমানা আর্জেন্টিনার জন্য বাড়তি শাস্তি হিসেবে এসেছে।
একটি বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের উত্তাপ সাধারণত হার-জিতের আবেগেই থেমে যায়। কিন্তু নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির সেই রাতের ঘটনা এবার আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানের পাশে আরেকটি অধ্যায় যোগ করল-যেখানে শিরোপার পরাজয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকল শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তিও!

























প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন হুমায়ুন কবির-শামীম কায়সার