ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়েকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2

রোনালদোকে ছাড়াই যেন আরও দুর্বার পর্তুগাল! শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে নরওয়েকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ক্রিস্তোফের আয়েরের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। তবে সেই ধাক্কা সামলাতে বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিকেরা। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জুয়াও কান্সেলোর চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে দলটি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে গনসালো রামোসের গোলে জয় নিশ্চিত হয় জর্জে জেসুসের দলের।

রোববার পোর্তোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে নরওয়েকে চাপে রাখে পর্তুগাল। বল দখলে ৫৫ শতাংশের বেশি আধিপত্যের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২০টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নরওয়ের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

শুরুতে অবশ্য গোলের দেখা পাচ্ছিল না পর্তুগাল। ২২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কান্সেলোর নেওয়া জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক এগিল সালভিক। এরপর ৩১ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার শটও ফিরিয়ে দেন তিনি।

তবে ৩৬ মিনিটে সব হিসাব পাল্টে দেয় নরওয়ে। মার্টিন ওদেগরের ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন ক্রিস্তোফের আয়ের। এবারের আসরে এই প্রথম পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল।

কিন্তু নরওয়ের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুই মিনিটের ব্যবধানেই ম্যাচে সমতা ফেরান কান্সেলো। নুনো মেন্দেসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া দুরন্ত শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি সালভিক। দারুণ এক গোলে ম্যাচে ফেরে পর্তুগাল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকেরা। একের পর এক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। ৭৩ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হুবেন নেভ্স। ছয় গজ বক্সের সামনে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের জয় এনে দেন রামোস। ৭৯ মিনিটে ভিতিনিয়ার দুর্দান্ত এক থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে ফেলিক্স বাঁ দিকে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে সহজ টোকায় বল জালে পাঠান রামোস। তাতেই উল্লাসে মাতে পর্তুগিজ শিবির।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে টানা তৃতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার। আর তিন ম্যাচেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা নাটকীয়তার জন্ম দেন ফ্রান্সিস্কু কন্সেইসাও। নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপর রেফারিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগিজ উইঙ্গারকে।

এ ঘটনায় মাঠে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি নরওয়ে।

অন্যদিকে একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুই অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে ও ওয়েলস।

নিউজটি শেয়ার করুন

নরওয়েকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল

আপডেট সময় : ১২:০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রোনালদোকে ছাড়াই যেন আরও দুর্বার পর্তুগাল! শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে নরওয়েকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ক্রিস্তোফের আয়েরের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। তবে সেই ধাক্কা সামলাতে বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিকেরা। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জুয়াও কান্সেলোর চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে দলটি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে গনসালো রামোসের গোলে জয় নিশ্চিত হয় জর্জে জেসুসের দলের।

রোববার পোর্তোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে নরওয়েকে চাপে রাখে পর্তুগাল। বল দখলে ৫৫ শতাংশের বেশি আধিপত্যের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২০টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নরওয়ের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

শুরুতে অবশ্য গোলের দেখা পাচ্ছিল না পর্তুগাল। ২২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কান্সেলোর নেওয়া জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক এগিল সালভিক। এরপর ৩১ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার শটও ফিরিয়ে দেন তিনি।

তবে ৩৬ মিনিটে সব হিসাব পাল্টে দেয় নরওয়ে। মার্টিন ওদেগরের ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন ক্রিস্তোফের আয়ের। এবারের আসরে এই প্রথম পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল।

কিন্তু নরওয়ের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুই মিনিটের ব্যবধানেই ম্যাচে সমতা ফেরান কান্সেলো। নুনো মেন্দেসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া দুরন্ত শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি সালভিক। দারুণ এক গোলে ম্যাচে ফেরে পর্তুগাল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকেরা। একের পর এক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। ৭৩ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হুবেন নেভ্স। ছয় গজ বক্সের সামনে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের জয় এনে দেন রামোস। ৭৯ মিনিটে ভিতিনিয়ার দুর্দান্ত এক থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে ফেলিক্স বাঁ দিকে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে সহজ টোকায় বল জালে পাঠান রামোস। তাতেই উল্লাসে মাতে পর্তুগিজ শিবির।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে টানা তৃতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার। আর তিন ম্যাচেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা নাটকীয়তার জন্ম দেন ফ্রান্সিস্কু কন্সেইসাও। নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপর রেফারিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগিজ উইঙ্গারকে।

এ ঘটনায় মাঠে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি নরওয়ে।

অন্যদিকে একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুই অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে ও ওয়েলস।